নিজস্ব প্রতিবেদক:
বর্তমান সরকারের সময়ে মবের কারণে বাকস্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে বলে ডায়ালগে অন্যান্য বক্তার অভিমতের জবাবে আসিফ নজরুল বলেছেন, তাঁর কাছে মনে হয় বাংলাদেশে এখন সবার বাকস্বাধীনতা রয়েছে, শুধু সরকারে যারা আছেন, তাদের নেই। তিনি বলেন, ‘১০টা জিনিসের মধ্যে সরকার যদি চারটা জিনিস করে, সেই চারটা জিনিস করেছে স্বীকার করে বাকি যে ছয়টা করতে পারেনি। সেটার জন্য সমালোচনা করলে সমস্যা নেই। কিন্তু সম্মানজনক জায়গায় থাকা ব্যক্তিরা যখন বলেন, কিছুই হয়নি, তখন খুব দুঃখ লাগে।’
সাইবার বুলিং সম্পর্কে বলতে গিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশে গত ১৬ মাসে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিং হয়েছে আমার বিরুদ্ধে। আমার আমেরিকায় বাড়ি আছে, আমার পরিবার চলে গেছে আমেরিকায়। এগুলো যারা প্রচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলেছেন?’
সংলাপে একজন বক্তা উপদেষ্টাদের ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ দাবি করেন। এর জবাবে পরে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই অন্যায় আক্রমণ, সমালোচনা, সারাক্ষণ অশ্লীল, অশ্রাব্য গালাগালি, প্রাণনাশের আশঙ্কা। অবর্ণনীয় জীবন। এই জীবন কে উপভোগ করে? কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করতে দেননি। তিনি বলেছেন, পদত্যাগ করলে আরেকজনের মনোবল নষ্ট হবে। কাজ করে যাও। কাজ করে যাচ্ছি। আমাদেরও বলার সময় আসবে, সবকিছু জানবেন।’
সংলাপের শুরুতে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর ততই সংকুচিত হয়। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের মতো গণমাধ্যমে হামলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুতর ব্যর্থতার প্রতিফলন।’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখনও অর্থ, ক্ষমতা ও ধর্মের ওপর নির্ভরশীল। রাষ্ট্র মব শক্তির উত্থানকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।’
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ৫৪ ধারা সংশোধন হলেও এর প্রয়োগ এখনও ত্রুটিপূর্ণ। ঔপনিবেশিক আমলের আইনগুলো নিয়ে বিতর্কের আহ্বান জানান তিনি।
এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, নির্বাচনের আগে ছোট দলগুলোকে লোভের মাধ্যমে বিভক্ত করা হয়। তারা এক সময় কাল্ট ফিগারে পরিণত হয়ে কর্তৃত্ববাদ উস্কে দেয়। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, সমালোচনা সহ্য করার সংস্কৃতি ছাড়া কোনো জাতি এগোতে পারে না।
সংলাপে আরও অংশ নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, গণঅধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারুক হাসান, সাংবাদিক মুকতাদির রশীদ প্রমুখ।
একে