সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয়, জাপা প্রার্থীদের বেড়েছে নগদ অর্থ

সোমবার, জানুয়ারী ১২, ২০২৬
নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয়, জাপা প্রার্থীদের বেড়েছে নগদ অর্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ২৪৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। যাচাই-বাছাই শেষে ১৭৫ প্রার্থীর মনোনয়ন টিকেছে। আপিল শেষে ১৮০-১৯০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার স্বপ্ন দলটির।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী নগদ অর্থ বেড়েছে জাপার বেশিরভাগ নেতার। তবে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মিত্র হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রশ্নে কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

জাপাকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে আদালতের রুল

জাতীয় পার্টি (এরশাদ/জি এম কাদের) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) জোটের প্রার্থীদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে গত ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিয়ে গড়ে ওঠা সম্মিলিত ঐক্যজোট জুলাই ঐক্যের পক্ষে রিটের আবেদন করেন জুলাই ঐক্যের সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (মুন্সি বোরহান মাহমুদ)।

গতকাল রোববার (১১ জানুয়ারি) জাতীয় পার্টি (জি এম কাদের) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন এনডিএফ প্রার্থীদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওইসব প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল প্রশ্নেও রুল জারি করেন আদালত।

ওইদিন হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা

জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল ও এনডিএফ জোটের প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জুলাই ঐক্য। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই কর্মসূচি ঘোষণা করে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৩ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় ‘মার্চ টু ইসি’ ও স্মারকলিপি প্রদান এবং পরদিন ১৪ জানুয়ারি বিভাগীয় শহরে ‘মার্চ টু বিভাগীয় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়’ (স্মারকলিপি)।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক প্লাবন তারেক, মুসাদ্দিক আলি ইবনে মোহাম্মদ, এবি জুবায়ের, ইসরাফিল ফরাজী, মুন্সি বোরহান মাহমুদ।

জাপাকে ভোট থেকে দূরে রাখতে চায় কয়েকটি দল

বিএনপি ‘নমনীয়’ থাকলেও গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া অংশ জাতীয় পার্টিকে ছাড়া নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির দাবি- তফসিল ঘোষণার পর কোনো দলকে বাদ দিয়ে ভোট করার নজির নেই। মব করে তাদের নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।

গত ৬ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। জাতীয় পার্টি কোনোভাবেই ভোটে অংশ নিতে পারবে না বলে দাবি জানান তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চাই না ফ্যাসিবাদের যারা দোসর এবং বিগত ফ্যাসিবাদকে যারা বিভিন্ন উপায়ে বৈধতা দিয়েছেন, তারা যেন কোনোভাবেই এই নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।’

এনসিপি ছাড়াও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) জাপাকে ভোটের মাঠ থেকে দূরে রাখতে চায়। দলটির নেতা ব্যারিস্টার ফুয়াদ জাপাকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ উল্লেখ করে দলটিকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন বেশ কয়েকবার। একই দাবিতে দলটি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদ।

জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবিতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। একই দিনে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন। তারপর থেকে জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবি আরও প্রবল হয়।

সরকারের তরফ থেকে ‘না’ নেই

গত বছরের ৫ ডিসেম্বর এক অনুষ্ঠানে আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, জাতীয় পার্টির ব্যাপারে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, তারা যদি ইলেকশন করতে চায়, সেটা তাদের ইচ্ছা।

প্রেস সচিব আরও বলেন, জাতীয় পার্টি হলো স্বৈরাচারের দোসর। অবশ্য জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ হয়নি। কিন্তু জাতীয় পার্টির ব্যাপারে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, তারা যদি ইলেকশন করতে চায়, সেটা তাদের ইচ্ছা। তবে আমরা সবসময়ই বলবো, ইতিহাস বলবে জাতীয় পার্টি স্বৈরাচারের ভয়ঙ্কর রকমের দোসর ছিল।

যা বলছে জাপা নেতৃত্ব

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের মতে, রাজনৈতিক দল হিসেবে ভোটে অংশ নেওয়া তাদের অধিকার। এজন্য তারা বেশিরভাগ আসনে প্রার্থী দিয়েছেন। যদিও আওয়ামী লীগ ভোট থেকে বিরত আছে, সেখানে জাতীয় পার্টিও যদি না থাকে, দেশে-বিদেশে সেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

জানতে চাইলে জাপার বিভাগীয় সম্পাদক মাহমুদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘অগণতান্ত্রিকভাবে মব তৈরি করে ভোট থেকে আমাদের দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। তফসিল ঘোষণার পর কোনো রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে ভোট করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নেই।’

ইসি ও জাপা সূত্রে জানা যায়, ২৪৪ আসনে মনোনয়ন নিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে ২২০ জন জমা দিয়েছেন। ১৭৫টি আসনে জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপা প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। বিভিন্ন ছোটোখাটো ভুল ও বকেয়া বিলের কারণে কিছু মনোনয়ন বৈধ হয়নি।

চাঁদপুরের একটি আসনে জাপার প্রার্থী বলেন, ‘ভোটের মাঠে এখনো তেমন বাধার সম্মুখীন না হলেও আগামীতে কী হয় সেটা বলতে পারছি না।’

দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর মতে, এবার তারা ভালো ফলাফল করবেন, অনেক প্রার্থী অপ্রত্যাশিত ফলাফলও পেতে পারেন।

আছে জোটের গুঞ্জন

নির্বাচন সন্নিকটে, জোট করতে মরিয়া জাতীয় পার্টি। কয়েকটি ইসলামী দল এরই মধ্যে জোটবদ্ধ হয়ে ভোট করতে যোগাযোগ করেছে বলে জাপা সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার এক নেতা বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। কয়েকটি দলের সঙ্গে আলাপ চলছে। শিগগির হয়তো জানতে পারবেন।

হালে পানি নেই দলছুটদের, প্রকট দলীয় বিভাজন

গত ৯ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি (একাংশ) ও জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) জোট হয়। জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন অংশ দুটিসহ মোট ১৮টি দল রয়েছে এই জোটে।

গত ২৩ ডিসেম্বর এনডিএফ জোটের পক্ষ থেকে ১১৯টি আসনে ১৩১ জন প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় প্রতীক-সংকটে পড়েছেন জাতীয় পার্টির দলছুট ও বহিষ্কৃত নেতারা। ইসির নিবন্ধন অনুযায়ী ‘লাঙল’ প্রতীকের মালিকানা এখনো জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন মূল জাতীয় পার্টির। তবে এনডিএফ জোট জাপার দলছুট প্রার্থীদের লাঙল প্রতীকে মনোনয়নপত্র দেয়। এসব মনোনয়নপত্রে সই করেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তবে নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী ওই স্বাক্ষরের বৈধতা না থাকায় এনডিএফভুক্ত জাপার দলছুট প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এখতিয়ার নেই।

আর তা আঁচ করতে পেরে আগেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান এনডিএফ জোটের মুখপাত্র ও মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং শীর্ষ নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ।

জানা গেছে, জোট থেকে মাত্র ৭০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পেরেছেন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে এনডিএফ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। আর কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে এনডিএফের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে থাকা দলীয় প্রধানের স্বাক্ষরের মিল নেই। জাপা থেকে বহিষ্কৃত ৮৫ জন নেতার মনোনয়নপত্রে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদারের স্বাক্ষর থাকায় একে একে সবার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘যদি লাঙল প্রতীক বরাদ্দ না পাই তাহলে নির্বাচন থেকে সরে যাবো। তবে, আইনি লড়াই চলবে। আমরা দলের গঠনতন্ত্র মেনে কাউন্সিল করেছি। কাউন্সিলের মাধ্যমেই নেতাকর্মীরা আমাদের বৈধতা দিয়েছেন। আমরাই মূল জাতীয় পার্টি।’

আবার জানা গেছে, মোহ কেটে যাওয়া অনেকেই আবার জি এম কাদেরের জাতীয় পার্টিতে ফিরছেন।

নগদ অর্থ বেড়েছে জাপা নেতাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। দুই বছরের ব্যবধানে তার নগদ অর্থ ও মোট সম্পদ বেড়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণেও এই চিত্র উঠে এসেছে।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, জি এম কাদেরের নগদ টাকার পরিমাণ ৬০ লাখ ৩২ হাজার ৪০৫ টাকা, তার স্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদেরের আছে ৪৮ লাখ ৯০ হাজার ৯৩৮ টাকা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জি এম কাদেরের নগদ টাকা ছিল ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৩ এবং একাদশ সংসদে নগদ টাকা ছিল ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৩ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী শেরীফা কাদেরের নগদ অর্থের পরিমাণ কমেছে। দুই বছর আগে স্ত্রী শেরীফা কাদেরের নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬৩ টাকা।

হলফনামায় জি এম কাদের জানিয়েছেন, তার বিদেশে কোনো সম্পদ নেই, ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ ১২ লাখ টাকা। দুই বছর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হলফনামায় গাড়ির যে দাম উল্লেখ করেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় ওই দাম উল্লেখ করা হয়েছে। জি এম কাদেরের ব্যবহৃত গাড়ির দাম ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭৫ টাকা। আর স্ত্রীর রয়েছে ৮০ লাখ টাকার গাড়ি।

এবার তিনি শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা; বিরোধীদলীয় নেতার ভাতা হিসেবে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার নামে ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ১২টি, যা তদন্তাধীন। ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ ১২ লাখ টাকা।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় জি এম কাদের বাড়ি/দোকান ভাড়া থেকে তিন লাখ টাকা; শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং বিরোধীদলীয় নেতার ভাতা হিসেবে ১১ লাখ টাকা আয় দেখিয়েছিলেন।

সে সময় জি এম কাদেরের নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৩ টাকা। ব্যাংকে জমা ছিল প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া ১ লাখ ১২ হাজার টাকার সোনা বা মূল্যবান ধাতুর গহনা ছিল তার মালিকানায়। এবারের হলফনামায় জি এম কাদের হাতে নগদ টাকার পরিমাণ দেখিয়েছেন ৬০ লাখ ৩২ হাজার ৪০৫ টাকা। ব্যাংকে জমা টাকার তথ্য হলফনামায় না দিয়ে আলাদা কাগজে জমা দেওয়ার কথা লিখেছেন। সঞ্চয়পত্র বা ফিক্সড ডিপোজিটে ৪০ লাখ টাকা থাকার তথ্য দিয়েছেন। গয়নার পরিমাণ আগের মতোই দেখিয়েছেন।

অন্যদিকে তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের পেশা সংগীতশিল্পী ও ব্যবসা

এবারের হলফনামায় জি এম কাদেরের অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর সম্পদের মূল্য এক কোটি ৭২ লাখ টাকা। জি এম কাদেরের কৃষিজমি না থাকলেও নিজের ও স্ত্রীর নামে লালমনিরহাট এবং ঢাকায় রয়েছে বাড়ি। লালমনিরহাট ও ঢাকায় জি এম কাদেরের নামে থাকা বাড়ির মূল্য এক কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ঢাকার স্ত্রীর বাড়ির দাম ৭০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, গাইবান্ধা-১ আসনের প্রার্থী জাপা মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী পেশায় আইনজীবী। তার নগদ অর্থের পরিমাণ এক লাখ ৫০ হাজার টাকা। দুই বছর আগে তার নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৭০ হাজার টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে তার ব্যবসা থেকে আয় বেড়েছে। হলফনামা অনুযায়ী ব্যবসা ও কৃষি থেকে তার আয় কমেছে।

আসন্ন ভোট উপলক্ষে ইসিতে জমা দেওয়া হলফনামায়, শেয়ার/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক থেকে ১৯ হাজার ৯৭৫ টাকা আয় দেখানো হয়েছে। নগদ অর্থ বাড়লেও সম্পদ কমেছে এই রাজনীতিবিদের। স্থাবর সম্পদ হিসেবে শামীম হায়দার পাটোয়ারী ব্যাংকে ছয় লাখ ৫৭ হাজার ৭৪৯ টাকা; বন্ড, ঋণপত্র ১২ লাখ ২৫ হাজার ৪৮৬ টাকা, যানবাহন ৯৬ লাখ টাকা ও দুই লাখ টাকার আসবাবপত্র দেখিয়েছেন। এছাড়া, এক কোটি ১২ লাখ টাকার কৃষিজমি ও এক কোটি দুই লাখ টাকার অকৃষি জমি দেখিয়েছেন তিনি।

দুই বছর আগে দেওয়া হলফনামায় বন্ড, ঋণপত্র ২০ লাখ, যানবাহন এক কোটি টাকা, ১০ লাখ টাকার গহনা, দুই লাখ টাকার আসবাবপত্র দেখিয়েছিলেন তিনি। ওই সময় ৭৮৬ শতক কৃষিজমির পরিমাণ এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ও ১১ কাঠা অকৃষি জমির মূল্য এক কোটি দুই লাখ টাকা দেখিয়েছিলেন তিনি।

কুড়িগ্রাম-১ আসন থেকে লাঙল প্রতীকে পাঁচবার জিতেছেন এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। আসন্ন ভোটেও একই আসন থেকে তিনি ভোট করতে চান। হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দুই বছরের ব্যবধানে কৃষি, ব্যবসা ও স্থাবর সম্পদ বেড়েছে তার।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দেওয়া হলফনামায় কৃষিখাতে তার কোনো আয় ছিল না। নতুন হলফনামায় কৃষিখাত থেকে আয় দেখিয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা।

পরিবহন ব্যবসায় যুক্ত এই ব্যবসায়ীর চাকরি থেকে আয় ৫৫ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে আয় চার লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর আয় তিন লাখ ৩৪ হাজার ৫৪০ টাকা। দুই বছর আগেও তার ব্যবসা থেকে আয় ছিল সাড়ে চার লাখ টাকা।

নতুন হলফনামা অনুযায়ী মোস্তাফিজুরের নগদ অর্থের পরিমাণ এক কোটি ১২ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে নগদ অর্থ ১৭ হাজার ১২৬ টাকা। ব্যাংকে এ দম্পতির জমা প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা। এছাড়া, আনুমানিক ২০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ, সাত বিঘা কৃষিজমি, ৬৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ অকৃষি জমি, আধাপাকা তিনটি ঘরের কথা জানিয়েছেন হলফনামায়।

দুই বছর আগে এই দম্পতির নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৪২ লাখ টাকা। ওই হলফনামায় ব্যাংক ও আর্থিক খাতে ৭৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ৬৭ লাখ টাকার যানবাহন, প্রায় তিন লাখ টাকার গহনা, আসবাব ও সাত বিঘা কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছেন।

জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ শেয়ার/ব্যাংক থেকে বার্ষিক তিন কোটি ৪৩ লাখ ও চাকরি থেকে ২৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। চট্টগ্রাম-৫ আসনের এই প্রার্থী ৩৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সম্পত্তির কথা জানিয়েছেন। যার মধ্যে নগদ অর্থ দুই লাখ ২০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা এক কোটি এক লাখ টাকা ও ৯২ লাখ টাকার যানবাহন রয়েছে। অন্যদিকে স্ত্রীর নামে ১২ কোটি ১১ লাখ টাকার সম্পদের ঘোষণা দিয়েছেন।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদের কৃষিজমি তিন হাজার একর। ভবনের মূল্য দেখিয়েছেন সাত কোটি ২২ লাখ টাকা ও ১৫ কাঠা জমিতে দেখিয়েছেন বাড়ি।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় শেয়ার/ব্যাংক থেকে তার আয় তিন কোটি ৪৭ হাজার টাকা, পরিচালক ও সংসদ সংসদ হিসেবে সম্মানী ভাতা ৫৩ লাখ টাকা দেখিয়েছিলেন। তখন নগদ টাকা ৪৮ লাখ ৫২ হাজার, বন্ড-ঋণপত্র ১৯ লাখ টাকা, কৃষি জমি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার, অকৃষি জমি ৩৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকার দেখান। বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্টের দাম দুই কোটি ৮৩ লাখ টাকা দেখিয়েছিলেন।

কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে প্রার্থী জাতীয় পার্টির আরেক দলছুট নেতা মুজিবুল হক চুন্নু। হলফনামায় জানিয়েছেন পেশায় তিনি আইনজীবী। ত্রয়োদশ নির্বাচন উপলক্ষে ইসিতে দেওয়া হলফনামায় মুজিবুল হক চুন্নুর নগদ অর্থ দেখানো হয়েছে দুই কোটি ৩৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৭৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ। ১৩ একর কৃষিজমি, পূর্বাচলে ৩৭ লাখ টাকার প্লট ও ৩৮ লাখ টাকার ভবনের কথা উল্লেখ করেছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় তার নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৪১ হাজার, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা প্রায় ৯৭ লাখ, যানবাহন এক কোটি ১০ লাখ টাকা ও কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন।

একে 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল