নিজস্ব প্রতিবেদক:
হুজাইফা আফনানের (৯) মুখের ডান পাশ দিয়ে গুলি ঢুকে মস্তিষ্কে আঘাত করেছে। কয়েক ঘণ্টা অস্ত্রোপচার করেও সেটি বের করতে পারেননি চিকিৎসকরা। যে স্থানে আটকে আছে, সেটিকে বিপজ্জনক জায়গা বলছেন তারা। সেটি বের করতে গেলে হুমকিতে পড়তে পারে শিশুটির জীবনই।
এ অবস্থায় মস্তিষ্কে জমাটবাঁধা রক্ত অপসারণ ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে খুলি খুলে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়েছে। গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
হুজাইফা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ জসিমের মেয়ে। সে লম্বাবিল হাজী মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।
মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ জসিম বলেন, ‘একজন বাবার কাছে এর চেয়ে কষ্টের আর কিইবা হতে পারে? মেয়েকে যে উন্নত চিকিৎসা করাব, সে অবস্থাও নেই। আমার মেয়ের মতো আর কারও সন্তান যাতে এমন পরিণতির শিকার না হয়, সে জন্য সরকারের কাছে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছি।’
শিশুটির চাচা মোহাম্মদ এরশাদ বলেন, ‘কেন ওর এমন পরিণতি হলো? রাষ্ট্রের কাছে এর বিচার চাই।’
গত রোববার সকাল ৯টার দিকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় শিশু হুজাইফা। পরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় বিকেলে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে রেখে চিকিৎসা দেন চিকিৎসকরা। ওই দিন মধ্যরাতে তার একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়।
হাসপাতালের নিচতলায় আইসিইউ বিভাগের সামনে সরেজমিন গতকাল সোমবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, ভর্তির ২৪ ঘণ্টা পরও শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। জ্ঞান ফেরেনি।
জানতে চাইলে আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ সমকালকে বলেন, ‘সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শিশুটির মাথার খুলি খুলে আপাতত ফ্রিজে রাখা হয়েছে। গুলিটি যেখানে আটকে আছে, সেখানে একসঙ্গে অনেকগুলো রক্তসঞ্চালন লাইন রয়েছে। সেখান থেকে গুলি বের করতে চাইলে আরও বিপদ হতে পারে। এতে হুমকিতে পড়তে পারে জীবন। তার শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় আমরাও চিন্তিত। এ অবস্থায় পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তাকে সুস্থ করতে সব ধরনের চেষ্টাই করছি আমরা।’
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন বলেন, ‘শিশুটির শারীরিক অবস্থা গুরুতর। তারপরও আইসিইউ, নিউরো সার্জারিসহ কয়েকটি বিভাগের তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে সুস্থ করে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি আমরা। গুলিটি মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে মারাত্মকভাবে আঘাত করায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেছে। শিশুটিকে অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার মতো অবস্থা নেই।’
চিকিৎসা ও নিরাপত্তা চেয়ে মানববন্ধন
শিশুটির চিকিৎসা ও সীমান্তে নিরাপত্তার দাবিতে গতকাল সোমবার দুপুরে টেকনাফের হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ হাইওয়ে সড়কে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। এতে বক্তারা মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্বিচারে গুলিবর্ষণের নিন্দা জানান। একই সঙ্গে এসব হামলা বন্ধের দাবি জানান।
গুলিবিদ্ধ আরেকজন চমেকে ভর্তি
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গতকাল আরেকজনকে ভর্তি করা হয়েছে চমেক হাসপাতালে। তার নাম কেফায়েত উল্লাহ (২২)। তিনি টেকনাফের ২১ নম্বর চাকমার কুল রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের বাসিন্দা নজির উদ্দিনের ছেলে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সীমান্তে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।’
একে