বুধবার, জানুয়ারী ১৪, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মিয়ানমারের বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষ অব্যাহত আছে। তবে আগের চার দিনের চেয়ে গতকাল মঙ্গলবার গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ কমেছে। সংঘাতের জেরে গতকাল ভোরে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ গ্রামে দুটি বসতবাড়িতে মিয়ানমারে থেকে আসা গুলি পড়েছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও সীমান্তে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে।
এদিকে গত রোববার সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে আহত টেকনাফের ৯ বছর বয়সী শিশু হুজাইফা আফনানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে বিজিবির বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত সোমবার টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আহত যুবক আবু হানিফের ক্ষতিগ্রস্ত পায়ের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব
সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে বাংলাদেশি শিশু আহত হওয়ায় ঘটনায় ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোকে গতকাল তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঢাকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোকে তলব করে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের দিকে গুলিবর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ মনে করিয়ে দেয়, বিনা উস্কানিতে গুলিবর্ষণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং সুপ্রতিবেশী সম্পর্কের অন্তরায়। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেন, তাঁর সরকার এই ধরনের ঘটনা বন্ধে ব্যবস্থা নেবে।
দুই বাড়িতে এসে ঢুকল ওপার থেকে গুলি
রাখাইনে আরাকার আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই এখনও থামেনি। গতকাল ভোরে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ গ্রামে দুটি বসতবাড়িতে এসে ঢুকেছে সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলি। তেচ্ছিব্রিজের বাসিন্দা নবী হোছাইন বলেন, সোমবার রাত ও মঙ্গলবার ভোরেও সীমান্তের এপার থেকে গোলার বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। এর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটি গুলি এসে আমার ঘরের দেয়াল ভেদ করে চলে যায়।
একে