মোঃ আবদুল্যাহ চৌধুরী, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের বানদত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মধুসূদন নাথ ও সিনিয়র শিক্ষক লক্ষণ চন্দ্র আচার্য্য এই দুইজন শিক্ষককে বানদত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজন, ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া দেন।
বানদত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য জয়নাল আবেদিনের সভাপতিত্বে শনিবার (১৭ জানুয়ারী) সকাল ১০ ঘটিকায় বিদ্যালয় মাঠে ঝাঁকজমক ভাবে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কবিরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হাফেজ মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান ওসমানী। এসময় কবিরহাট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতি: দায়িত্ব) মো. দিদারুল আলম, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সদর নরোত্তমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, কবিরহাট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অহিদুজ্জামান বাবুল, বানদত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিমাই চাঁদ বৈষ্ণব, বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মধুসূদন নাথ ও সিনিয়র শিক্ষক লক্ষণ চন্দ্র আচার্য্য উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়ী শিক্ষকরা বলেন, ১৯৯৩ ও ১৯৯৯ সাল থেকে এই দুই শিক্ষক সত ও নিষ্ঠার সাথে এই স্কুলের সাথে জড়িত থেকে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন এই বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও লেখাপড়ার মান উন্নয়ন ধরে রাখতে, এই স্কুল একাধিকবার কুমিল্লা বোর্ডেও শ্রেষ্ঠত্ত্ব লাভ করেন, নিজেদের সবটুকু দিয়ে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সাথে বিগত সময় কাটানো হয়েছে, আজ ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষকগণ এবং এলাকাবাসী যেই ভাবে এত সুন্দর আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় দিচ্ছে সেটি দেখে নিজেদের গর্ভীত মনে করেন তারা।
দুইজন গুণী শিক্ষকের বিদায়ে স্কুলের বর্তমান ও সাবেক ছাত্র/ছাত্রীরা আবেগে আপ্লূত হয়ে বলেন, এই শিক্ষকদের বিদায়ে যদিও কষ্ট হচ্ছে তারপরেও দিতে হয়, কারণ চাকরির নিয়মটাই হচ্ছে এমনি, তবে তাদের বিদায় দিলেও কখনো এই শিক্ষকদের ভুলার মত না, তাদের দিয়ে যাওয়া শ্রম এবং শিক্ষার যে আলো ছড়িয়ে গেছেন সেটি সারাজীবন মনে রাখার মত।
এসময় বক্তারা বলেন, বিদায় শব্দটি অতি ছোট তিন অক্ষরে নাম তার, কিন্তু যার বেদনা অনেক কঠিন, এটি একমাত্র উপলব্ধি করতে পারেন যারা বিদায় দেন এবং বিদায় নেন, বিদায় দুই ধরনের হয়, এক বিদায় চির বিদায়, আরেক বিদায় হচ্ছে ক্ষণিকের বিদায়। আজকের বিদায়টিও এটি ক্ষণিকের বিদায়। অবসর জনিত কারণে দুই শিক্ষককে বিদায় দিলেও কিন্তু সেটির মাঝে আনন্দ লুকিয়ে রয়েছে। বিদায়ী শিক্ষককে আনুষ্ঠানিক বিদায় দিতে পেরে নিজেদের গর্ভীত মনে করেন বক্তারা।
এমআই