রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জর্জরিত মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলা

রোববার, জানুয়ারী ১৮, ২০২৬
ক্ষমতার দ্বন্দ্বে জর্জরিত মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার পর কেটে গেছে দুই সপ্তাহ। এই সময়ের মধ্যেই দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতার ভেতরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের অনুগতদের বসাচ্ছেন, যাতে অভ্যন্তরীণ হুমকি মোকাবিলা করা যায় এবং একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের চাপ অনুযায়ী তেল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়।

৫৬ বছর বয়সী রদ্রিগেজ আগে মাদুরো সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও তেলমন্ত্রী ছিলেন। তিনি সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে সামরিক পাল্টা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিসিআইএমের নতুন প্রধানও নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন কিউবার সহায়তায় গড়ে ওঠা এই সংস্থাটি ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ভয়ংকর নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে পরিচিত।

মেজর জেনারেল গুস্তাভো গনসালেসকে ডিজিসিআইএমের প্রধান করা হয়েছে। সরকারের ভেতরের তিনটি সূত্র জানিয়েছে, রদ্রিগেজের নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় হুমকি—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোর প্রভাব মোকাবিলায় এটি ছিল তার প্রথম কৌশলগত পদক্ষেপ। কাবেলোর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনী ও কুখ্যাত মোটরসাইকেল গ্যাং ‘কোলেকতিভো’র ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিরোধী সমর্থকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

সরকারঘনিষ্ঠ এক সূত্রের ভাষ্য, ‘তিনি (রদ্রিগেজ) স্পষ্টভাবে জানেন, মার্কিনিদের সম্মতি ছাড়া তার টিকে থাকা সম্ভব নয়। সে কারণেই তিনি সেনাবাহিনীতে সংস্কার শুরু করেছেন, পুরোনো লোক সরিয়ে নতুনদের বসাচ্ছেন।’

ভেনেজুয়েলার সাতজন কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের সঙ্গে রয়টার্সের নেওয়া সাক্ষাৎকারে সরকারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিশোধের আশঙ্কায় সবাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম বড় ভাষণে পার্লামেন্টে জাতীয় বার্ষিক ভাষণ দেন রদ্রিগেজ। সেখানে তিনি ঐক্যের আহ্বান জানান, নিজেকে মাদুরোর বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে তুলে ধরেন এবং তেলখাতে নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে রাজনীতিতে ‘নতুন অধ্যায়ের’ প্রতিশ্রুতি দেন।

ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউজ রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে তাকে ওয়াশিংটনে দেখবেন বলে আশা করছেন।

অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব
ব্যবসায়িক যোগাযোগের কারণে ‘দ্য সারিনা’ নামে পরিচিত রদ্রিগেজ দেশের বেসামরিক ক্ষমতার বড় অংশ, বিশেষ করে তেল শিল্প নিয়ন্ত্রণ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনও পাচ্ছেন। এই সমর্থনের বার্তা আরও স্পষ্ট হয় যখন তিনি কারাকাসে সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

অন্যদিকে, কাবেলো নেতৃত্বাধীন আরেকটি শক্তিশালী গোষ্ঠী রয়েছে। সমাজতান্ত্রিক দল পিএসইউভির প্রধান কাবেলো সাবেক সেনা কর্মকর্তা। মাদুরো বন্দি হওয়ার পর প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতিতে তিনি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে সশস্ত্র প্রহরীদের ঘিরে ধরে টেলিভিশনে হাজির হন এবং স্লোগান দেন—‘সন্দেহ মানেই বিশ্বাসঘাতকতা।’

রয়টার্স জানিয়েছে, মাদুরো বন্দি হওয়ার আগে এবং পরে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাবেলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী বা কোলেক্তিভো ব্যবহার না করতে তাকে সতর্ক করেন।

যদিও প্রকাশ্যে কাবেলো ও রদ্রিগেজ নিজেদের ‘ঐক্যবদ্ধ’ বলে দাবি করছেন, সরকারের ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, রদ্রিগেজের শাসনক্ষমতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি এখনো কাবেলোই।

মাদুরো বন্দি হওয়ার পর রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। কোথাও কোথাও দলীয় কর্মীদের প্রতিবেশীদের ওপর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যারা মাদুরোর পতনে আনন্দ প্রকাশ করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এই অস্থির পরিস্থিতিতে রদ্রিগেজকে একদিকে দলীয় সমর্থকদের বোঝাতে হচ্ছে যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুতুল’ নন, অন্যদিকে ভেঙে পড়া অর্থনীতি সামাল দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েক দশকের শাসনে গড়ে ওঠা সামরিক ও ব্যবসায়িক পৃষ্ঠপোষকতা নেটওয়ার্কের ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ভেনেজুয়েলায় প্রকৃত রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটাতে হলে শেষ পর্যন্ত দিয়োসদাদো কাবেলোর ভাগ্য নির্ধারণ অনিবার্য হয়ে উঠবে।

এমআই 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল