খুবি প্রতিনিধি:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যাম্পাসে প্রায় ত্রিশ বছরের পথচলায় ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে বিরল বৃক্ষ নাগলিঙ্গম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই গাছ কেবল বড় হয়নি; গড়ে তুলেছে এক অনন্য পরিচয়। এর সৌন্দর্য, ঔষধি গুণ এবং ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব মিলিয়ে নাগলিঙ্গম আজ খুবি ক্যাম্পাসের প্রকৃতিগত ঐতিহ্যের অংশ।
নাগলিঙ্গম গাছের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর ফুল ফোটার ধরন। সাধারণ উদ্ভিদের মতো ডালপালায় নয়, এই গাছের ফুল ফোটে সরাসরি কাণ্ড বা গুঁড়িতে। গুঁড়ি ফুঁড়ে বের হওয়া থোকায় থোকায় ফুল দেখে মনে হয়, কেউ যেন গাছটির শরীরে অলংকার এঁকে দিয়েছে। গাঢ় গোলাপি ও হালকা হলুদ রঙের মিশ্রণে ছয় পাপড়িযুক্ত এই ফুল দেখতে অনেকটা ফণা তোলা সাপের মতো, যা নামের সঙ্গেও এক ধরনের সাযুজ্য তৈরি করে।
উচ্চতায় প্রায় ৩৫ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে সক্ষম নাগলিঙ্গম গাছের পাতা গুচ্ছাকারে জন্মায়। বছরের বিভিন্ন সময়ে পাতা ঝরে পড়লেও অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন পাতা গজিয়ে ওঠে। ফুল ঝরে যাওয়ার পর গাছে ধরে গোলাকার ফল, যা দেখতে অনেকটা বেলের মতো এবং আকৃতিতে কামানের গোলার সঙ্গে মিল থাকায় ইংরেজিতে এর নাম হয়েছে Cannon Ball Tree।
মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল নাগলিঙ্গমের আদি নিবাস হলেও ভারতীয় উপমহাদেশে এটি হাজার বছরের বেশি সময় ধরে পবিত্র বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে নাগলিঙ্গম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; শিব ও সর্প পূজায় এই ফুলের ব্যবহার দেখা যায়। ভারতে গাছটি ‘শিব কামান’ নামেও পরিচিত।
শুধু সৌন্দর্য বা ধর্মীয় গুরুত্বই নয়, নাগলিঙ্গম গাছের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গুণ। এর ফুল ও ফলের নির্যাস থেকে তৈরি হয় উন্নতমানের সুগন্ধি। এছাড়া গাছটির ছাল ও পাতার নির্যাস অ্যান্টিসেপটিক, অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিফাঙ্গাল হিসেবে কাজ করে; চর্মরোগ ও ম্যালেরিয়ার প্রতিষেধক হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে নাগলিঙ্গম গাছের উপস্থিতি দেখা যায় জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, রমনা উদ্যান, কার্জন হল, বলধা গার্ডেন, নটর ডেম কলেজ ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সিলেট ও হবিগঞ্জ অঞ্চলে।
নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা নাগলিঙ্গম আজ খুবি ক্যাম্পাসে শুধু একটি বৃক্ষ নয় এটি সময়, প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্কের এক জীবন্ত স্মারক।
এমআই