নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। ২৯৮ আসনে (দুটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হবে ২৬ জানুয়ারি) এসব দলে এক হাজার ৯৬৭ প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৩০টি দল কোনো নারী প্রার্থীই দেয়নি। বাকি ২১ দলের ৮৬ জন নারী সরাসরি নির্বাচন করছেন।
ইসির হিসাবে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে পারবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন ভোটার।
মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন; নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৪ জন; আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ১ হাজার ১২০ জন। এই পরিসংখ্যান এক বিশাল ভারসাম্যহীনতা তুলে ধরছে। দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী হলেও প্রার্থী তালিকায় তাদের উপস্থিতি নগণ্য।
অথচ বড় দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নারীদের প্রার্থী করা হয়নি। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টসহ (বিআইএফ), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোট, বাংলাদেশ কংগ্রেস দলে কোনো প্রার্থী নেই।
জাতীয় পার্টি (জেপি),বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাসদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, গণফ্রন্টেরও কোনো নারী প্রার্থী নেই। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (সিরাজুল), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশেরও কোনো নারী প্রার্থী নেই।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা, ইসলামী ঐক্য জোট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি (পার্থ) ও বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টির নারী প্রার্থী নেই। গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ এবং বাংলাদেশ সমাধিকার পার্টিতেও উপেক্ষিত নারী প্রার্থী।
বড় দল বিএনপি ২৮৯ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন মাত্র ৯ নারী। এবার জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) ২ জন, জাতীয় পার্টি থেকে ৫, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ২, গণসংহতি আন্দোলন থেকে ৪, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে ৩, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ মার্কসবাদী) থেকে ৮, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি থেকে ৬, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে ৬ ও গণফোরাম থেকে ২ জন নারী প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), জাতীয় পার্টি-জেপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), আমজনতার দল, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে ১ জন করে নারী প্রার্থী রয়েছেন।
এছাড়া স্বতন্ত্র হিসাবে লড়াইয়ে রয়েছেন সাত নারী। এর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী (প্রার্থিতা ঘোষণার পর দল থেকে বহিষ্কার) প্রার্থী সাবেক এমপি রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২) ও এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা (ঢাকা-৯)।
১৯৯৫ সালে তৎকালীন সরকার ৩০ শতাংশ আসনে নারীদের সরাসরি নির্বাচনের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এর বাস্তবায়ন আজও হয়নি। রাজনৈতিক দলে যেসব নারীরা শীর্ষ পর্যায়ে আছেন, এদের অনেকেই নির্বাচন করতে পারছেন না। অথচ দলগুলো বলে বেড়াচ্ছে, নারী প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
জুলাই সনদ প্রণয়নে সম্পৃক্ত একজন বলেন, জুলাই সনদে নারী প্রার্থী মনোনয়নে ন্যূনতম ১০ শতাংশ রাখার বাধ্যবাধকতা ছিল। বাস্তবে এবার বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল তা মানেনি। জামায়াতে ইসলামীর মতো বড় দলও নারীদের মনোনয়ন দেয়নি, যা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার চিত্র। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী এবার ২২৬ আসনে নির্বাচন করছে। এর মধ্যে একজনও নারী নেই। অতীতেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি নারী প্রার্থী দেয়নি। যদিও সংরক্ষিত নারী আসনে কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের নারী প্রতিনিধিত্বের নজির আছে। দলটির নারী শাখাও রয়েছে। তবু সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী না দেওয়ার পেছনে দলীয় নেতারা তিনটি যুক্তির কথা বলছেন। এগুলো হলো-পর্দা মেনে গণসংযোগের বাস্তবতা, আগ্রহের ঘাটতি ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা।
একে