রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোটের কাজে বিএনসিসি চায় না বিএনপি

রোববার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬
ভোটের কাজে বিএনসিসি চায় না বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সহায়তার জন্য বিএনসিসি সদস্যদের যুক্ত না করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

দলটি বলছে, এ কাজে তাদের যুক্ত করা হলে ছাত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে।

রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে এমন এক গুচ্ছ পর্যবেক্ষণ ও দাবি তুলে ধরেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। ইতোমধ্যে ১৬ হাজার বিএনসিসি সদস্যকে ভোটের কাজে সহায়তার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন-ইসির সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন সচিব। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দেওয়া হয়।

নির্বাচন ভবনে বৈঠক শেষে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এর ক্যাডেটরা ছাত্র। তাদের নির্বাচনের কাজে প্রথমবারের মতো যুক্ত করার সিদ্ধান্ত আমরা শুনেছি। এটা এখনও চূড়ান্ত কিছু হয়নি হয়ত।

“আমরা জেনে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে বলেছি- ইয়াং, ছাত্র তাদেরকে সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না।”

ইসির উদ্যোগে দলটির আপত্তির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “সেজন্য বেটার হবে, যদি তাদেরকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা না হয়। আমরা জানতে পেরেছি-এটা যদি করা হয় তাহলে বলা হবে স্কাউটদেরকেও যুক্ত করা হোক। এর কদিন পর বলা হবে গার্লস গাইডদের যুক্ত করা হোক।

আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বলে আইনে যাদেরকে উল্লেখ রয়েছে, তাদেরকে নির্বাচনের কাজে রাখা উচিত। তারা (ইসি) আমাদের কথার যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন।”

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছে ইসি।

কোনো কোনো দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার নামে শান্তি কমিটি গঠন করা হবে, এমন আলোচনা শোনার বিষয়টি তুলে ধরেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান।

তিন বলেন, “শান্তি কমিটি শব্দটাই আমাদের কাছে অপ্রিয় শব্দ, যদিও শান্তিবাদী মানুষ। ইসি বলেছে, তাদের এ সম্পর্কে জানা নেই; এ ধরনের কমিটি করার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।”


ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে বহিরাগতদের নির্বাচনি এলাকা ছাড়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বিএনপি।

দলের নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, “ইসিকে অবহিত করেছি, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তাদের নির্বাচনি এলাকার বাইরে অন্য নির্বাচনি এলাকায় কাজ করছে। আইনে এটা বাধা নেই, করতে পারে। তবে তারা যেহেতু স্থানীয় নয়, তাদের চেনে না-তারা যেন নির্বাচনের দুদিন আগে, তারা যেন সে এলাকায় না থাকে, এবং সেখানে থেকে নির্বাচনি কর্মকাণ্ডে বিশৃঙ্খলার সুযোগ না দেয়- সেটা আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।”

নির্বাচনি প্রচার বন্ধ হলে সেখানে যারা ভোটার নয়, তারা ওই এলাকায় থাকা স্বাভাবিক নয়, উচিতও নয়, এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে বলেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া নজরুল ইসলাম বলেন, এবার দেশি ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজারেরও বেশি পর্যবেক্ষক অনুমোদন দিয়েছে ইসি। এর মধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান আছে, তেমন পরিচিত নয়।

“তাদের নামে অনেক পর্যবেক্ষক দেখেছি। অভিযোগ নেই; ইসিকে বলেছি তারা বিষয়টা গভীরভাবে বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নাকি সাধারণ প্রক্রিয়ায় হয়েছে। তারা বিষয়টি বিবেচনা করবেন। পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে যাদের তাদেরই পযবেক্ষণই করা উচিত।”

একসঙ্গে বেশি পর্যবেক্ষক গিয়ে নির্বাচনি কর্মকাণ্ড যেন ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য ইসিকে বলা হয়েছে, বলেন তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “গত এক দেড় বছরে ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর ভোটার স্থানান্তর হয়েছে। বিশেষ বিশেষ এলাকায় অনেক নতুন ভোটার হয়েছে, যেটা অস্বাভাবিক।

“এ বিষয়ে ইসি জানিয়েছে এরকম বেশি হয়নি, কোনো আসনে দুই-তিন হাজারের বেশি হয়নি। তাদের কথায় সন্তুষ্ট হতে পারিনি।”

নজরুল ইসলাম বলেন, “নিশ্চিত জানি, ইসিকে যারা তথ্য সরবরাহ করেছে সঠিক তথ্য দেয়নি।

“প্রকৃত পক্ষে অনেক বেশি ভোটার মাইগ্রেশন হয়েছে। আসনভিত্তিক ভোটার মাইগ্রেশনের তথ্য জানতে চেয়েছি, তারা এটা দেখবেন। এদের মধ্যে সন্দেহ করার মতো থাকলে ইসির উচিত ব্যবস্থা নেওয়া।”

এমন হোল্ডিং নম্বর, যেখানে ৪/৫ জনের বেশি বসবাস করে না, সেখানে ২০-৩০ জন ভোটার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছে তারা তদন্ত করবে। “হয়ত হোল্ডিং নম্বর নেই, কিন্তু ভোটার রয়েছে। এগুলো মন্দ লোকেরাই করছে।”

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “ভোটার আইডি-বিকাশ নম্বর নিয়ে কেলেঙ্কারি করেছে, তারাই হয়ত ভুয়া ভোটার বা ভোটার মাইগ্রেশনে জড়িত। ইসির ভূমিকা দরকার।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা এটাও বলেছি যে এমন সব নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, যেগুলো শুধু আইন অমান্য বা আইন ভঙ্গই নয়, আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে আহত করা হচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

“যেমন আমরা দেখেছি, কেউ কেউ কোনো দলের পক্ষে বক্তৃতা করছেন যে কবরে চারটি প্রশ্ন করা হয়। আমরা যারা মুসলমান, আমরা সবাই জানি যে আসলে তিনটি প্রশ্ন করা হয়—তোমার ধর্ম কী, তোমার রব কে এবং তোমার নবী কে?”

আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে বিচারিক অনুসন্ধান কমিটিকে তাদের কর্মকাণ্ড আরো দৃশ্যমান করার বিষয়ে জোর দেন তিনি।

এমআই 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল