মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের নাম, প্রস্তাব অনুমোদন

মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২৬
বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের নাম, প্রস্তাব অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর নাম বদলে যাচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন হয়েছে। র‌্যাব এখন থেকে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ) নামে পরিচিতি পাবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস। 

গত এক দশকে র‌্যাবের নানা কার্যক্রমে বাহিনীটি নানাভাবে সমালোচিত হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর কেউ র‌্যাব সংস্কার আবার কেউ বিলুপ্ত করার কথা তুলেছে। তবে বাহিনীটিকে সরকার বিলুপ্ত না করে নতুন নামে আনতে যাচ্ছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘বাহিনীটির কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার পর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পোশাকও বানানো হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, র‍্যাব গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে এ বাহিনীর নাম ছিল র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‍্যাট)। ২০০৪ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে র‍্যাব গঠিত হয়।

র‍্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে র‍্যাব এবং বাহিনীটির সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দফতর পৃথকভাবে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর যে তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশও রয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) দীর্ঘদিন ধরেই র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছে।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে র‍্যাবের অতীত কার্যক্রম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পর্যালোচনা করে বাহিনীটির প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছে বিএনপিও। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘র‍্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সংস্কারের সুযোগ নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেমন গ্যাংগ্রিন হলে কেটে ফেলতে হয়, তেমনি এই বাহিনী বিলুপ্তি ছাড়া উপায় নেই।’

সর্বশেষ আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে র‍্যাবের গত দুই দশকের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ সময়কালে বাহিনীটি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অভিযোগ না ওঠে, সেজন্য ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, ইংল্যান্ড ও তুরস্কের মতো দেশে এলিট ফোর্স কীভাবে কাজ করে— তা পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০০৪ সালের ২৬ মার্চ র‍্যাব (র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) গঠিত হয়। র‍্যাব বাংলাদেশের একটি বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে এর কার্যক্রম শুরু হয় একই বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে। ২০০০-এর দশকের শুরুতে দেশে সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা, খুন, অপহরণ বেড়ে যায়। প্রচলিত পুলিশ ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি দ্রুত, শক্তিশালী ও যৌথ বাহিনীর প্রয়োজন দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটেই বিশেষ বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন সরকার।

২০০৫ সালে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার পর জঙ্গিবাদ দমনে র‍্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের অভিযানে জেএমবি ও অন্যান্য উগ্রবাদী সংগঠনের বহু শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হয়। 

র‌্যাব মূলত একটি যৌথ বাহিনী— বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, আনসার, বিজিবি থেকে সদস্য নিয়ে গঠিত। শুরুতেই র‍্যাব শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত অপরাধীদের গ্রেফতার করে আলোচনায় আসে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন নাম ও কাঠামোর মাধ্যমে বাহিনীটিকে আরও জবাবদিহিতামূলক ও আইনসম্মত পথে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া, নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘পুলিশের মনোবল ও কর্মক্ষমতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেড়েছে।’ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দিন-তারিখ ঘোষণার পর বর্তমান পরিস্থিতি আগের নির্বাচনের তুলনায় অনেক ভালো এবং আসন্ন নির্বাচন হবে গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর।

এদিকে, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী হাইদার সিদ্দিকী জানান, নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চলমান অভিযানে সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৩১টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

এমআই 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল