বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৬
মাইদুল ইসলাম:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে ধানের শীষের হয়ে ভোটে লড়ছেন বিএনপির সহ শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। এর আগে তিনি দুই বার সংসদ সদস্য ছিলেন। বিএনপির এই হেভিওয়েট প্রার্থীর সাথে আলাপে বিএনপির টু-থার্ড মেজরিটি পাওয়া, নারী ভোটার কমা, তার আসনের নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি, তারেক রহমানের পরিকল্পনা, ইনক্লুসিভ পলিটিক্স, বিএনপির পরিকল্পনা এবং তরুণদের নিয়ে পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয় উঠে আসে।
এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, প্রথমে আমি বলতে চাই, বিএনপি তিনশো আসন কিভাবে পাবে এই চিন্তাই তো আমি কখনো করিনি। আমার ঢাকার বন্ধুরা যারা বিএনপির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, ওনাদের সাথে যখন আমার আলাপ হয়েছে, ওনারা যখন বলেছেন যে টু-থার্ড মেজরিটি, আমি সবসময় বিরোধিতা করেছি। আমার নেতা শুনবেন তো এটা। টু-থার্ড মেজরিটি না কেন চাচ্ছেন আপনারা? এই বাংলাদেশ তো ইনসাফের বাংলাদেশ হতে হবে। আমার নেতা তারেক রহমান হকের বাংলাদেশ চাচ্ছে, ইনসাফের বাংলাদেশ চাচ্ছে, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাচ্ছে।
এত আন্দোলন-সংগ্রাম, সতেরো বছরে এত আমাদের কোরবানি। তারপরে জুলাই আগস্টে আমাদের ছাত্রজনতার এই আত্মাহুতি। সেখানে আমরা মেজরিটি কেন চাইব? যেকোন পার্লামেন্ট অপজিশন যদি স্ট্রং না থাকে। ইভেন হাউজ অব কমন্স সেখানে যদি অপজিশন একবার একটা পার্লামেন্টে আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ ষাট বছর আগে ব্রুট মেজরিটি পেয়েছিল লেবাররা। সেবার তারা ফুল টাইম শেষ করতে পারেনি। এটা নিয়ে তো ফ্রেজ আছে। সো, এটার বিরুদ্ধে বলছি আমি কোনদিন সম্ভব না।
নারী ভোটারদের বিষয়ে তিনি বলেন, আর এখন আপনি যেটা বলতেছেন এটা কখনোই কমে নাই। এটা এরকমই ছিল। এইটা আমাদের অপজিশন। যারা এখন ভাবতেছে যাদের কথা ওনারা আমাদের থেকে জোটের থেকে চলে যাওয়ার পরে ওনারা মুভমেন্টে কম ছিলেন। নামই বলতে পারি। মতিউর রহমান নিজামী সাহেব, আলী আহসান মুজাহিদ সাহেব, আমাদের সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেব, কামারুজ্জামান সাহেব, আব্দুল কাদের মোল্লা ওনাদের যখন আমাকে ফাঁসি দেওয়া হল, সাজিয়ে মামলা করা হল, রিচ করা হল, সরকার করলেন। তারপর জামাতের অফিস দখল করার পরে আন্ডারগ্রাউন্ড হয়ে গেল। স্বাভাবিক ভাবেই ওনারা তখন মহিলাদের মধ্যে কাজ করেছেন। হয়তো যেহেতু ভোটের মাঠে বিএনপি ছিল না বহু বছর। বিএনপির নেতাকর্মীরাই অনেক নেতাকর্মী আছে। আমার একটা ইউনিয়নের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তার ওয়াইফ জামায়েতের রোকন। ওনারা বিভিন্ন বাড়িতে বাড়িতে কোরআন ও সুন্নাহর তালিম করছে। স্বাভাবিক কারণেই মেয়েরা ওখানে ইনভলভ হয়ে গেছে। এখন আমাদের বিরোধী দল মনে করে যে অধিকাংশ মেয়ের ভোট পাবে। আপনারা সাংবাদিক বন্ধুরা এরকম বিভিন্ন রিপোর্ট পাচ্ছেন তো যারা একদম প্রান্তিক রিপোর্ট করে। যারা কাজ করে তাদের সাথেও আলাপ করেছি আমার বন্ধুদের সাথে। অনেক বেড়েছে, বাড়া মানে কত বেড়েছে? বিএনপির ছিল ৭০% মহিলা ভোটার। যারা তারা খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমানকে দেখে ভোট দিতেন। আমাদের রিসোর্চ আছে, আমি কত পার্সেন্ট ভোট পাই। আমি তিনবার ভোট করছি, এমপি হয়েছি। সারা বাংলাদেশের আছে আমার কাছে, তারেক রহমানের কাছে আরো বেশি আছে।
তারেক রহমানের বিষয়ে আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, তারেক রহমানের ল্যাপটপের মধ্যে বাংলাদেশ। এটা অনেকে ব্শ্বিাস করেনা এখন তো দেখতেছেন। সেইক্ষেত্রে আমি মনে করি গণতন্ত্রের জন্য। আল্লাহ আমাদেরকে ট্রেজারি বেঞ্চে বসার সুযোগ করে দেয়। আমাদের নেতা তারেক রহমান যদি ওনার মায়ের ভাগ্য ওনার হয়। বেগম খালেদা জিয়া প্রথম এমপি, প্রথম প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের মানুষ প্রস্তুত।
আমাদের গ্লোবাল পলিটিক্সে যারা রাজনীতি করেন। আপনারা যারা ঢাকার সাংবাদিক, উপরের সাংবাদিক। গ্লোবাল পলিটিক্সটা তো মেইন সাউথ ইস্ট এশিয়ার মধ্যে। সেখানে তারেক রহমান গ্লোবালি কিন্তু একসেপ্টেবল পারসন। টাইমস দেখেন, ফক্স নিউজ দেখেন উনি কিন্তু গ্লোবালি এখন এক্সেপ্টেবল। আমি একটা উদাহরণ দেই। আমাদের ভারতের সাথে খুব বিরোধ আপনারা লক্ষ্য করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই ঘন্টার ভিজিটে আসছে চিঠি দেওয়ার জন্য। বুঝতে হবে আমাদের পররাষ্ট্র নীতি কিন্তু শত্রুতা না, এইটা পৃথিবীর মানুষ বুঝে গেছে। এবং তারেক রহমানের নর্মস, ম্যানারস, এটিকিউট, ভ্যালুজ। এই যে সতেরো বছর ছিলেন বারো বছর যে পৃথিবীর সব দামী-দামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি লোকদেরকে একত্রিত করে যে পরিকল্পনা করেছেন।
যখন আমাদের সাথে কথা বলেছেন নমিনেশনের আগে এবং পরে। উনি বলেছেন আপনার প্রশ্নের উত্তর আপনাকে দিতে হবে। কৃষককে আপনি কী দিবেন? যে আপনাকে ভোট দিবে। জেলেকে কী দিবেন? আপনি ঐ স্বপ্ন দেখাবেন ওটা আর হবে না। এই সমস্ত পরিকল্পনার মধ্যে আছে। আমি মনে করি ভালো অপজিশন হোক। এবং অবশ্যই ইনশাআল্লাহ আপনি দেখবেন খুব ভালো একটা মেজরিটি নিয়ে আমার নেতা তারেক রহমান সরকার গঠন করতে পারে।
লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের বিষয়ে মি. নিজান বলেন, আমার সিটের কথা যদি আপনি জানতে চান, এখানে আমাদের অসম্ভব ভালো সম্পর্ক যেটা ছিল না কোনোদিন রামগতিতে। এখানে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ থেকে এআর হাফিজুল্লাহ আমার খুব ভালো বন্ধু। ইসলামী আন্দোলন আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ পরহেজগার মানুষ। ভালো মানুষ। জনাব আসম আবদুর রব সাহেবের সহধর্মিণী মিসেস তানিয়া। স্থানীয় এবং জাতীয় একটা ফোকাস আছে। উনারা সকলেই তো গণতন্ত্রের মানুষ। জুলাই আগস্টের আন্দোলনের মানুষ। তো আমরা কেন ভোট কাটবো? ইঞ্জিনিয়ারিং করব আমরা? কেন ব্যালট পেপার ছাপানো হয়? যেগুলো বলা হয়। আমরা কেন জাল ভোট দেব? আমরা কেন বোরকা নিয়ে আসব? আমরা কেন হারিকেন নিয়ে আসব? ইলেক্ট্রিসিটি দিব? ব্যালট পেপার ছাপব। শহীদের রক্তের সাথে কী বেইমানি করব আমরা। আমি মনে করি আমাদের এখানে এটা করবে না এবং এই ঢেউ সারা বাংলাদেশে লাগবে।
তিনি বলেন, আমি বলতেছি কয়েকদিন থেকে ইনক্লুসিভ পলিটিক্স। সবাই বলছে ইনক্লুসিভ ইলেকশন, আমি বলতেছি ইনক্লুসিভ পলিটিক্স। গ্রামের মানুষ বুঝেনা, আমি বুঝাই বুঝা যাইতেছি। সকলে মিলে রাজনীতি। মানুষ প্রশ্ন করে আমাকে সকলে মিলে আপনাকে ভোট দিলে কেমনে হবে? আমি বলে এটার নাম হলো ইনক্লুসিভ পলিটিক্স। তোমরা সকলে মিলে আমাকে ভোট দাও। আমি তোমাদের সকলের রাজনীতি করার জন্য যে অধিকার। তোমাদের হরতাল, মানববন্ধন, বিক্ষোভ আমি এনশিওর করবো তোমাকে। প্রথমে রামগতি-কমলনগরে শুরু করব। কেউ না কেউ তো শুরু করতে হবে।
যেমন আপনি দেখেন দু'হাজার সাল থেকে আজ পর্যন্ত রামগতিতে বিএনপি কোন পলিটিক্যাল মামলা দেয়নি। আমি অনএয়ার বললাম এটা, একটাও না। এখানে পাঁচটা মার্ডার আছে জুলাইতেই। এর আগে আমার বাড়ির পাশে যুবদল ওকে মেরে ফেলছে। আমার ছাত্রদলের একটা ছেলেকে মেরে ফেলেছে। কোনো মামলা নেই। আমরা রিকনসিলিয়েশন চাই। অনেকে বুঝতে পারেন না।
আমার নেতা তারেক রহমান। পাঁচ তারিখে সরকার পতন হয়েছে। সরকার ছিলোনা। আট তারিখ রাত সাড়ে নটার সময় ইউনুস সাহেবের সরকার গঠন করা হল। ৭ তারিখে পল্টনে মিটিংয়ে ওনার মেইন ফোকাস ছিল কি? মেইনলি বলছে আপনি যেটা জানতে চান, প্রথম কথায় উনি বলছে বিজিত এবং বিজয়ী একসাথে না থাকতে পারলে আমাদের দেশ আগানো যাবে না। আওয়ামী লীগ এক কথায় বিজিত আর বিজয়ী মানে আমরা। আওয়ামী লীগের ত্রিশ পার্সেন্ট ভোট আছে ভাই। কয় পার্সেন্ট লোক খুন করছে। আমি অন-এয়ারে বলতেছি কিন্তু লুকানোর কথা না। খুন করছে কয় পার্সেন্ট? গুমে করছে কয় পার্সেন্ট? গ্রামে মাথা ফাটাইছে, জায়গা দখল করছে কয় পার্সেন্ট? কোন পার্সেন্টেজের মধ্য পরেনা। বাকিরা তো আমরা আত্মীয় স্বজন। আত্মীয় বন্ধু-বান্ধব আমাদেরকে মারছে। আমরাও মারব। ওরা ফেসবুকে লিখছে, আমরা লিখব। আমাদের এক ভাই থাকে বিদেশে ও হয়তো দুইটা কথা বলতে গিয়ে লিখছে। সেজন্য থাপ্পড় দিছে আ.লীগের লোকজন। আমরা তো এটা পারবোনা।
আমার নেতা এমন ফিলোসফিক্যাল থট দিছে যে না যারা গুম, খুন, জায়গা দখল করছে তার বিচার হবে। মব তো করা যাবে না। সেজন্য আমি মনে করি আগামীর বাংলাদেশ তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইনসাফের বাংলাদেশ হবে। হকের বাংলাদেশ হবে, ফ্রিডম অফ স্পিচ হবে, ফ্রিডম অফ ডেমোক্রেসি, জাস্টিস হবে, একদম একশতভাগ হবে সেটা বললে তো ভুল হবে। বিশ পার্সেন্ট আগাই, ত্রিশ-চল্লিশ পার্সেন্ট আগাই। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমাদের নেতৃত্বের মধ্যে একটা অটোক্রেসি আছে। এই যে আমি এমপি হয়ে যাব এটা তো ঠিক না। বিনয় ছাড়া তো কোন উপায় নেই। বিনয়ের কোন বিকল্প নাই।
বিএনপির পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেট করা আছে পরিকল্পনা। হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড, ক্যালিফোর্নিয়ার লোক কাজ করছে। ক্রিমিনোলজির উপরে কাজ করতেছে। আমি নাম বলি আমাদের মুস্তাক সোয়াস ইউনিভার্সিটির হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্ট। কত চৌদ্দ মাস কাজ করতেছে। ব্যাংকিং যে ক্রাইম হয়েছে কেউ জানে না। পেপার পত্রিকায় আসেনা। আমি আজকে বলে দিলাম আপনাদেরকে। আমাদের পরিকল্পনা আছে। দেখবেন যে আপনি ভোটটা হয়ে গেল না। আল্লাহ চাহে তো দুই মাসের মধ্যে দেখবেন যে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে উঠে গেছে। ব্যাংকিং সেক্টরে পরিবর্তন চলে আসতেছে। মানুষের মনোজগতে এসে যাবে কিন্তু। প্রথমতো নেতা কী করতে চায় আমাদের দেশে বলেন যেই দেশে বলেন। আমি বিশ্বাস করি আমার নেতা তারেক রহমান হোপ। আমি ওনাকে বুঝতে পারি।
আমি মনে করি আমার নেতার যে ল্যাপটপ এইটা যদি ঠিক থাকে এবং আল্লাহ চাহে তো উনি যেসব মানুষদের পিক করেছেন। রাজনীতি করা তো কঠিন ব্যাপার। এই আমাদের নেতারা যারা আছে তারা একটা মাইন্ড সেটের মধ্যে আছে। রাজ আমাদের ভিতরেই কিন্তু রাজ আছে। রাজকে থামানো এটা অনেক কঠিন ব্যাপার। আমার নেতা এটা থামা্ই ফেলছে। যার জন্য সেন্সরের কোট লন্ডনের সবচেয়ে গরিব মানুষেরা পড়ে। ওইভাবে উনি নিজেকে সিজন করে নিয়েছে। আমি খুব হোফফুল।
নতুন ভোটারদেরকে বিএনপি কিভাবে আকর্ষণ করছে জানতে চাইলে বলেন, বিএনপি দেখেন অনেকগুলি নতুন নতুন মুখ নিয়ে আসছে। মাহদী আমিন ও আসছে কিন্তু বাইশ সালে আসছে, কিউ চিনতেন না। এরকম আমাদের দুইশ লোক আছে বাংলাদেশে যারা কাজ করতেছে এখনও আসে নাই ফোকাসে। এইসব যাদের দেখতেছেন আপনারা একটু মনে করতেছেন যে খারাপ মানুষ। উনারা কেউ থাকতে পারবে না। আমি মনে করি যে বিজনেসম্যান দের জন্য এটা ভালো হবে। সবচেয়ে বড় আমাদের নৈতিকতার একটা বিশাল পরিবর্তন করতে হবে এবং তারেক রহমান এই ব্যাপারে খুবই সচেতন। আমি মনে করি ইনশাআল্লাহ আমরা ঐ পথেই যাচ্ছি। সময় লাগবে হয়তো।
এমআই