নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন পাঁচজন 'জেন-জি' প্রতিনিধি। তাদের মধ্যে চারজন গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপির এবং একজন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের। তারা সবাই এবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় নির্বাচনি ঐক্য থেকে নির্বাচন করেছেন।
যদিও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন অন্তত ২৩ জন জেন-জি প্রার্থী, তাদের মধ্যে ১৮ জন পরাজিত হয়েছেন।
বিজয়ী জেন-জিদের মধ্যে রয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম (২৭), সদস্য সচিব আখতার হোসেন (২৮), দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ (২৭) এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ (২৬)। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা (২৮) জয়লাভ করেছেন।
১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া নাগরিকদের 'জেনারেশন জেড' বা 'জেন-জি' বলা হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মোট ২৫ জন জেন-জি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেন। তবে পরবর্তীতে দুজন অন্য প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
পরাজিত জেন-জিদের মধ্যে আলোচিত প্রার্থী ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি পঞ্চগড়-১ আসনে ৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার নওশাদ জমির। সারজিস আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯ ভোট।
পুরো নির্বাচনে জেন-জিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে নির্বাচন করা হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ আসনের ১১৬টি কেন্দ্রের সবকটিতে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে তিনি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার ৫২৬ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৬৪৪ ভোট।
এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে নির্বাচন করেন। প্রাথমিক ফলাফলে তিনি প্রায় ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। শাপলা কলি প্রতীকে তিনি পান ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পান ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট।
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
নোয়াখালী-৬ আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমের চেয়ে ২৬ হাজার ৭৪৬ ভোট বেশি পান। মাসউদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ১১৮ ভোট, আর মাহবুবের রহমান শামীম পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৩৭২ ভোট।
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে এগারো দলীয় জোট মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাদিরা আক্তার পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে 'জেনারেশন জেড বিপ্লব'ও বলা হয়। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জাতীয় রাজনীতিতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রতিফলন দেখা গেছে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও।
দলভিত্তিক হিসাবে এবার এনসিপির সাতজন, গণঅধিকার পরিষদের তিনজন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের তিনজন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর দুজন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের একজন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিএনএফ, আম জনতার দল, বিএমজেপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ থেকে একজন করে জেন-জি প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন।
এমআই