বাগেরহাট প্রতিবেদক:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসান তারেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা, মাঠ কর্মীদের সাথে দুব্যবহার, স্টোর ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম মাঠে। উপ-পরিচালক (পার্সোনাল) এরশাদ আহমেদ নোমানী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ১৭ ফেব্রুয়ারি উক্ত কর্মকর্তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলায় যোগদানের আদেশ প্রদান করেন। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সেই আদেশ উপেক্ষা করে পূর্বের কর্মস্থলে বহাল থাকার জন্য ছুটির অজুহাতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন এই কর্মকর্তা। এ নিয়ে নানা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার দেখা দিয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই দপ্তরের মাঠ কর্মীরা।
জানাগেছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচএফপি) ডা. হাসান তারেক দীর্ঘদিন ধরে এ দপ্তরে কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকার সুবাধে নানাবিধ অনিয়ম, একাধিক ফিল্ড কর্মকর্তাদের সাথে দুব্যবহারের অভিযোগ তুলে পরিচালক, উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. রায়হান রহমান, সাহেরা আক্তারসহ একাধিক ফিল্ড কর্মকর্তারা।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাগেরহাট জেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রাশেদুল বশির খানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে একটি তদন্ত টিম গঠন করে। একই সাথে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে কচুয়া উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দেকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে উপ-পরিচালক (পার্সোনাল) এরশাদ আহমেদ নোমানী স্বাক্ষরিত আরেক এক আদেশে ডা. তারেক হাসানকে যশোর বাঘারপাড়ায় যোগদানের নির্দেশনা প্রদান করেন। এদিকে উক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৭ ফেব্রুয়ারি তদন্ত চলাকালিন সময়ে তিনি অনুপস্থিতি থেকে ১০ দিনের মেডিকেল ছুটির আবেদন করেন। এ ছুটির অজুহাতে পূর্বের কর্মস্থল থেকেই কর্মকর্তা ডা. তারেক হাসান দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়ে বদলী ঠেকাতে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। ইতোপূর্বে এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে তন্ময় কুমার দে বলেন, বাগেরহাট জেলা কর্মকর্তার নির্দেশনা তিনি এ উপজেলায় ১৮ ফেব্রুয়ারি যোগদান করেছেন। তবে, পূর্বের কর্মকর্তা তাকে চার্জ বুঝিয়ে দেয়নি। শুনেছি তিনি ছুটিতে রয়েছেন।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রাশেদুল বশির খান বলেন, মোরেলগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. তারেক হাসানের বিরুদ্ধে স্টোর ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অধিনস্ত কর্মচারিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচারণ, আর্থিক অনিয়মসহ সকল অভিযোগগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে, তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি তদন্তে উপস্থিত না থেকে মেডিকেল ছুটির অজুহাত দেখিয়ে অন্যদিকে দৌড়ঝাপ করছেন বিষয়টি যেনেছেন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করা হবে।
এদিকে মোরেলগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তার ডা. হাসান তারেকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
এমআই