মো. মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি:
অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ দ্রুত সম্পন্ন, সম্ভাব্য বরাদ্দ বাতিল রোধ এবং ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কারের দাবিতে ঝালকাঠির নলছিটিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় নাগরিকরা।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নলছিটি পৌরসভা চত্বরে “সাধারণ নাগরিক” ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রিজভী আহমেদ সবুজের কাছে লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— ২০২০-২১ অর্থবছরে শুরু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের অসমাপ্ত সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপির উদ্বোধন হওয়া কিন্তু বাস্তবায়ন না হওয়া প্রকল্পসমূহ সম্পন্ন করা এবং পৌরসভার আধুনিকায়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রায় ১৩ কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ বাতিলের উদ্যোগ প্রত্যাহার করা।
তারা আরও দাবি করেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পৌরসভার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ উন্নয়নকাজে ব্যবহার না করে সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আটকে থাকা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসঙ্গে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম আগামী জুলাই-আগস্ট মাসের মধ্যেই শুরু করার আহ্বান জানান তারা।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী নেত্রী সাথী আক্তার। তিনি বলেন, “দেড়শ বছরের পুরোনো এই শহরে এখনো প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, পার্ক, টার্মিনাল ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাবে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ এলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।”
আন্দোলনকারী ইমরান হোসেন বলেন, “দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও নলছিটি উন্নয়নের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দের অর্থ ফেরত যাওয়ার পরিস্থিতি কেন সৃষ্টি হয়েছে, তার জবাব জনগণ জানতে চায়।”
আসিফ জিয়া মুন্না বলেন, “১৮৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভায় এখনো একটি শিশুপার্ক পর্যন্ত নেই। সড়কবাতি, জলাবদ্ধতা নিরসন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে রয়েছে।”
মো. রাহাত বলেন, “পৌরসভার সামনের প্রধান সড়কই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ফুটপাত দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শহরের সৌন্দর্যবর্ধনেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।”
জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা মূসা সরদার বলেন, “নলছিটির অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উন্নয়নের বরাদ্দের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”
কর্মসূচির সমন্বয়কারী ও সমাজকর্মী বালী তাইফুর রহমান তূর্য বলেন, পৌরসভার আধুনিকায়নের জন্য সিটিসিআরপি প্রকল্পের আওতায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ অবকাঠামো, বস্তি উন্নয়ন, নতুন গোরস্থান, শিশুপার্ক, ইকোপার্ক, ফায়ার হাইড্র্যান্ট, গার্বেজ রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট ও সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজের সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রকল্পটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কোটি টাকার বরাদ্দ বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য হতাশাজনক।
তিনি আরও বলেন, “২০২১ সালে শুরু হওয়া একাধিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। এসব কাজ দ্রুত শেষ না হলে ভবিষ্যতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। একইসঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”
প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
একে