সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

বাতিল হচ্ছে লটারি পদ্ধতি, স্কুলে ভর্তি মেধার ভিত্তিতে

সোমবার, মার্চ ১৬, ২০২৬
বাতিল হচ্ছে লটারি পদ্ধতি, স্কুলে ভর্তি মেধার ভিত্তিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষায় লটারি পদ্ধতি থাকছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি জানিয়েছেন, স্কুলে ভর্তি নেওয়া হবে পরীক্ষার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে। বৃত্তি পরীক্ষাও নেওয়া হবে আগের মতো।

সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি একদিন আগে সংসদে বলেছি অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কীভাবে ভর্তি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। সেটা বহাল রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেভাবেই হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘লটারি ইস নট সলিউশন। সমন্বিত ভর্তি সিস্টেম আমরাই করেছিলাম ২০০১ সালে। আপনি যদি অন্য দেশের সঙ্গে কম্পেয়ার করেন তাহলে দেখবেন, তাদের বরাদ্দ এবং আমাদের বরাদ্দ কি এক? আমরা এসেই প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আরও কাজ আমরা করছি। এগুলো আলোচনায় আনতে হবে।’

তিনি বলেন, `শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে লটারি অনেকটা জুয়া খেলার মতো। তাই এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র করে কেউ কোচিং বাণিজ্য শুরু করতে চাইলে সরকার তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। এ ক্ষেত্রে সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইনহাউজ কোচিংয়ের ব্যবস্থা করবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে আমরা লটারি পদ্ধতি বাতিল করেছি। আগে থেকেই জানিয়ে দিলাম।’

তবে লটারি পদ্ধতি বাতিলের পর নতুন ভর্তি প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

বৃত্তি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ পরীক্ষাভিত্তিক করে তুলছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের আগ্রহের বিষয়। বৃত্তি পেলে যে অর্থ দেওয়া হয়, তা দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হয়।’

তিনি আরও জানান, বৃত্তি পরীক্ষা ঐচ্ছিক থাকবে। যারা পরীক্ষা দিতে চাইবে না, তাদের জন্য তা বাধ্যতামূলক হবে না।

এর আগে চলতি সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চান, প্রাইমারি স্কুলগুলোর ভর্তি পদ্ধতি পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না। তিনি ভর্তি পদ্ধতি লটারির মাধ্যমেই রেখে মেধাকে সবসময় দমিয়ে রাখা হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মূলত দুটি ধরন রয়েছে— গ্রামীণ ও শহুরে। গ্রামীণ এলাকায় এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তেমন প্রতিযোগিতা নেই, ফলে সেখানে লটারি পদ্ধতি বড় কোনো সমস্যা তৈরি করেনি। তবে রাজধানী ঢাকাসহ শহুরে এলাকায় এ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এই জটিলতা নিরসনের জন্য বিগত সরকার লটারি পদ্ধতি চালু করেছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে এটি তার কাছে খুব একটা যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না। আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পদ্ধতি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দুদিন না যেতে সেই কথামতো স্কুলে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি তুলে দেওয়ার কথা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী।

এমআই


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল