নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজধানীর শাহবাগ থানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক ইবনে মোহাম্মদ মারধরের শিকার হন। এ ছাড়া সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দায়িত্বরত ১০ গণমাধ্যমের প্রতিবেদক হামলার শিকার হয়েছেন। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এ হামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল রাতে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার সাংবাদিকদের সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্য।
জানা গেছে, ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে ডাকসুতে নির্বাচন করা আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি ফেসবুক পোস্ট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ছিল। তবে অভিযুক্ত ঢাবি শিবির নেতা বলছেন, সেটি ভুয়া। এ নিয়ে ফেসবুকে নানা ধরনের হুমকি পাওয়ার পর তিনি সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করতে যান। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা থানা ঘেরাও করেন। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় থানায়।
ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ তার ফেসবুক আইডিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করেছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে আসেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
ছাত্রদল নেতাদের দাবি, তারা যখন থানায় অভিযোগ করতে আসেন, তখন তারা অভিযুক্ত মাহমুদকে সেখানে উপস্থিত দেখতে পান। এক পর্যায়ে ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে থানায় গেলে পরিস্থিতি উত্তেজক হয়ে ওঠে। তারা মারধরের শিকার হন। হামলার মুখে থানার ভিতরে আশ্রয় নেন দুই ডাকসু নেতা। অন্যদিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেছ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও কালের কণ্ঠের ঢাবি প্রতিনিধি মানজুর হোছাঈন মাহি, সাধারণ সম্পাদক ও আগামীর সময়ের সাংবাদিক লিটন ইসলাম, দেশ রূপান্তরের এইচ এম খালিদ হাসান, ডেইলি অবজার্ভারের নাইমুর রহমান ইমন, ডেইলি স্টারের মাহাথীর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের মো. ছাব্বিরুল ইসলাম, নয়া দিগন্তের মো. হারুন ইসলাম, রাইজিংবিডি ডট কমের মো. সৌরভ ইসলাম, মানবজমিনের মো. আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা ট্রিবিউনের মো. সামশুদৌজা নবাব, প্রাইম বাংলাদেশের ইফতেখার সোহান সিফাত, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মাহরিব বিন মহসিন। এ পরিস্থিতি চলার একপর্যায়ে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থানার সামনে যান। পরে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্য হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাইমা রহমানকে ঘিরে অশ্লীল ফটোকার্ড সোশ্যালমিডিয়ায় ছড়ানো হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে প্রচলিত প্রসিডিওর মেনে প্রাধ্যক্ষ বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু কে বা কারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেন, শাহবাগে আসেন। ইচ্ছাকৃতভাবে তারা তিন থেকে চারজন, ছাত্রদলের হাজার-হাজার নেতা-কর্মীর মাঝে আসার পর এমন পরিস্থিতিটি তৈরি হয়। যারা আহত হয়েছে, তাদের নিরাপদে আমরা পার করে দিয়েছি। একটি গণতান্ত্রিক সরকারের মাত্র দুই মাস হয়েছে, এখন এই নতুন সরকারের সূচনালগ্নে আমরা (ছাত্রদল) অস্থিতিশীল করব, এটি কেউ বিশ্বাস করবে না। আজকের এই অস্থিতিশীলতার মূলে গুপ্ত রাজনীতি (শিবির) এবং আজকে এখানে যেটি হলো সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রোপাগান্ডা।’ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, আমি চট্টগ্রাম থেকে এসেছি। বিষয়টা আমি শুনেছি। দেখছি আমি।
একে