মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬

ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন কুবি শিক্ষিকা

মঙ্গলবার, জুন ২, ২০২৬
ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম উদ্ভাবনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন কুবি শিক্ষিকা

কুবি প্রতিনিধি: 

জাপানের 'এশিয়ান ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬' অর্জন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। এ সম্মাননা অর্জনের মাধ্যমে তিনি প্রথম বাংলাদেশি গবেষক হিসেবে এ পুরস্কার লাভের গৌরব অর্জন করেছেন। 

মঙ্গলবার (২ জুন) তার এই পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ড. জান্নাতুল ফেরদৌস। 

বায়োটেকনোলজি গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাপানের সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি (এসবিজে) তাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করে। 

নিজের গবেষণা ও অর্জন প্রসঙ্গে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “আমার গবেষণার মূল বিষয় ছিল ন্যানোটেকনোলজির মাধ্যমে উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম উদ্ভাবন। ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দ্রাব্যতা ও স্থায়িত্ব সংক্রান্ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হই। এছাড়া গ্রোথ ফ্যাক্টর, প্রোটিনসহ বিভিন্ন জৈব অণু নিয়ে কাজ করতে গিয়েও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। 

তিনি আরও বলেন, আমার গবেষণার লক্ষ্য ছিল ন্যানোটেকনোলজি ব্যবহার করে এমন একটি ক্যারিয়ার সিস্টেম তৈরি করা, যা এসব জৈব অণুকে কার্যকরভাবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের চিকিৎসা, চোখে ওষুধ সরবরাহ, এমনকি ক্যান্সার থেরাপিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মূলত একটি বহুমুখী ও কার্যকর ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে ‘ন্যানোজেল ডিসপারশন’ প্রযুক্তির উন্নয়নই ছিল আমার গবেষণার প্রধান বিষয়। এই গবেষণার জন্য আমরা জাপানে একটি পেটেন্টও অর্জন করেছি, যা পরবর্তীতে গবেষণাটিকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এটিকে একটি আদর্শ ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম হিসেবে আরও উন্নত করার সম্ভাবনা রয়েছে। 

মর্যদাপূর্ণ অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি যে পুরস্কারটি পেয়েছি, তা আমার ব্যক্তিগত জীবনের অন্যতম বড়ো অর্জন। একই সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি। 

এই গৌরবময় সাফল্যযাত্রায় গবেষণা সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, এই অর্জনের পেছনে দীর্ঘ গবেষণা-যাত্রা রয়েছে। আমার পিএইচডি গবেষণা এবং পরবর্তীতে জাপানে আমার সুপারভাইজারের গবেষণাগারে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের ফলস্বরূপ আমি এই পুরস্কার অর্জন করেছি। এ ক্ষেত্রে আমার জাপানি সুপারভাইজার, গবেষণাগারের সহকর্মী এবং ল্যাবমেটদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে শিক্ষা ছুটি প্রদান এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। আমার বিভাগের সহকর্মীরা সবসময় সহযোগিতা করেছেন এবং শিক্ষার্থীরাও আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমি গবেষণার মাধ্যমে যা শিখেছি, তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তাদের গবেষণায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করি। এছাড়া আমার পরিবারও এই দীর্ঘ যাত্রায় সবসময় আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। 

ন্যানোজেল প্রযুক্তি আবিষ্কার বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার হতে পারে উল্লেখ করে ড. জান্নাতুল ফেরদৌস আরও বলেন, “এটি একটি আধুনিক ও উন্নত ড্রাগ ডেলিভারি প্রযুক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় প্রযুক্তিগত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় গবেষক ও ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজস্ব পেটেন্ট, নতুন ড্রাগ মলিকিউল এবং উন্নত ক্যারিয়ার সিস্টেম উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্যান্সারের মতো জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। জাপানে আমি যে ক্যারিয়ার সিস্টেম নিয়ে কাজ করেছি, তার অনুরূপ গবেষণা বাংলাদেশেও পরিচালিত হলে দেশের চিকিৎসা ও ওষুধ গবেষণা খাতে তা একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।” 

উল্লেখ্য, সোসাইটি ফর বায়োটেকনোলজি, জাপান (এসবিজে) জাপানের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সংগঠন। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি (বায়োটেকনোলজি) এবং জীবনবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও ব্যাবহারিক গবেষণার উন্নয়নে কাজ করে আসছে।

একে


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল