শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

নীরব মহামারী: অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এবং আমাদের ভবিষ্যৎ

শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬
নীরব মহামারী: অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এবং আমাদের ভবিষ্যৎ

লাবনী আক্তার শিমলা:

প্রযুক্তি, গবেষণা ও জ্ঞানের বিস্তারে মেডিক্যাল সায়েন্সের পরিধি এখন তুঙ্গে। বর্তমান সময়ে মেডিক্যাল সায়েন্সের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি হল অ্যান্টিবায়োটিক। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে একটি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিরাময়ের মাধ্যমে এন্টিবায়োটিকের যাত্রা শুরু হয়। পেনিসিলিনের আবিষ্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানের দরজায় করা নাড়ার পর বদলে গিয়েছিলো পৃথিবী। যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া এখন নিত্যদিনের নিরাময়যোগ্য রোগে পরিণত হয়েছে। অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ভিত্তিমূলে দাঁড়িয়ে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক। কিন্তু এই জয়ের আড়ালে নিরবে বেড়ে চলেছে এক ভয়াবহ সংকট- অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হল এমন এক পরিস্থিতি, যখন রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া সেই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স-এর  বিরুদ্ধে টিকে থাকার ক্ষমতা অর্জন করে। এমন পরিস্থিতিতে অ্যান্টিবায়োটিক তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, ফলে রোগী সুস্থ হতে পারে না। এই ভয়াবহ শব্দটি কাঁপাচ্ছে বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতিমধ্যে একে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসুরক্ষার অন্যতম বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ্রাম প্রজেক্ট’-এর সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ২০২৫ সালে এই নীরব মহামারি সরাসরি ১১.৪ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়েছে, আর পরোক্ষভাবে ৪৭ লাখের বেশি মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিল এটি। যা এইচআইভি/এইডস বা ম্যালেরিয়ার চেয়েও মারাত্মক।গ্রাম প্রজেক্টের পূর্বাভাস বলছে,  ২০২৫ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে এই মহামারি সরাসরি ৩৯ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। 

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ত্যান্সের কারণে পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার কিছু অংশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অংশ হওয়ায় এর ঝুঁকি নিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। গ্রাম প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, পশ্চিম আফ্রিকার সাব-সাহারান অঞ্চলে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে এএমআরজনিত মৃত্যুর হার প্রায় ২৭৮ জন—যা ধনী দেশগুলোর তুলনায় ১৫ গুণ বেশি। দক্ষিণ এশিয়ায় এই হার ২০০-এর ওপরে। কারণগুলো স্পষ্ট: স্যানিটেশনের অভাব, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের সহজলভ্যতা, এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা।

তাছাড়া, বয়সভিত্তিক পর্যালোচনা দেখায়, ১৯৯০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এএমআরজনিত মৃত্যু ৫০ শতাংশের বেশি কমেছে—ভ্যাকসিন ও স্যানিটেশন কর্মসূচির সাফল্য। কিন্তু একই সময়ে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে মৃত্যু বেড়েছে ৮০ শতাংশের বেশি। জনসংখ্যা বৃদ্ধি জনিত কারণে এর প্রবণতা তীব্রতর হয়। 

এই নীরব ঘাতক স্বাস্থ্য খরচ বাড়িয়ে দেয়। যেহেতু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হতে পারে না, সেহেতু হাসপাতালে রোগীর সুস্থও হতে সময়ে বেশি লাগে। ঘানার গবেষণায় দেখা গেছে, এএমআর রোগীদের হাসপাতালে প্রায় ৫ দিন বেশি থাকতে হয় । অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র ১,০৭৯টি এএমআর সংক্রমণ ১২,১৩৮ দিনের অতিরিক্ত হাসপাতাল ভর্তির কারণ হয়েছিল । এছাড়া,  সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করায় চিকিৎসকদের ‘লাস্ট রিসোর্ট’ ওষুধ ব্যবহার করতে হয়, যার দাম প্রথম সারির ওষুধের তুলনায় ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি।গুরুতর ক্ষেত্রে কিছু সময় আইসিইউ তেও রাখতে হয় রোগীদের। 
এটি প্রত্যক্ষভাবে কর্মক্ষম মানুষকে এবং পরোক্ষভাবে অর্থনীতিতে ক্ষতি বয়ে আনে। 

দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকলে মানুষ কাজে যেতে পারে না, পরিবারের সচ্ছলতা কমে আসে। আবার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলে অকাল মৃত্যু ঘটে।
দেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ কৃষি ও পশুসম্পদ। অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করায় পশু মারা যাচ্ছে। কখনো অতিরিক্ত ডোজ পড়লে তা প্রাণীখাদ্যের গুণগত মান নষ্ট করে দেয়। এটি সরাসরি জনগণের নিরাপদ খাদ্যের সহজলভ্যতা কমিয়ে আনছে।  বিশ্ব ব্যাংকের ২০১৭ সালের প্রতিবেদন ‘Drug-Resistant Infections: A Threat to Our Economic Future’ ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে, ২০৫০ সালের মধ্যে এএমআর বৈশ্বিক জিডিপিতে ৩.৪ শতাংশ হ্রাস ঘটাবে, যা প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাৎসরিক ক্ষতি। 

বিজ্ঞানীরা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সকে টাইম বম্ব আখ্যা দিয়েছেন। এই বম্ব তৈরির কারখানা আমরা নিজেরাই। আমাদের কার্যকলাপ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশন অপ্রয়োজনীয় বা ভুল। ভাইরাসঘটিত সর্দি-কাশি, সাধারণ জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া ব্যাকটেরিয়াকে সুযোগ করে দেয় প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে। এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধ বিক্রি ও ক্রয়ের ঘটনা ঘটছে অহরহ।  ল্যানসেটের ২০২৩ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ২৯ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রি হয়।
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার এখন কৃষি ও খামারেও বিস্তৃত। মোট উৎপাদনের অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হয় পশুপালন ও মাছ চাষে। শুধুমাত্র অসুস্থ প্রাণীর চিকিৎসা নয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয় পশুর বৃদ্ধি ত্বরান্বিতকারী হিসেবে।  ২০১৭ সালে ভারতের এক গবেষণায় দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির ৮৫ শতাংশ নমুনায় কোলিস্টিন প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ছিল—একটি শেষ সারির অ্যান্টিবায়োটিক। কৃষি থেকে এই রেজিস্ট্যান্ট জিন মানবদেহে চলে আসে খাদ্য ও পরিবেশের মাধ্যমে।

সবচেয়ে জটিল ও কম আলোচিত একটি সমস্যা হল নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি বাণিজ্যিক অনীহা। একটি নতুন অ্যান্টিবায়োটিক বাজারে আনতে ব্যয় হয় ১ থেকে ১.৫ বিলিয়ন ডলার। আর চিকিৎসকেরা কেবল তখনই নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের পরামর্শ দেন, যখন পুরনো অ্যান্টিবায়োটিকগুলো কাজ করে না। এর ফলে বাজারে প্রচলিত অন্য সব অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে নতুনগুলো টিকতে পারে না। ফলে মুনাফা কমে আসে। ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিক গবেষণার গতি কমে আসে। 

পরিচ্ছন্নতার অভাব, অপর্যাপ্ত আইসোলেশন সুবিধা, এবং জীবাণুনাশকের অপব্যবহার হাসপাতালগুলোকে সুপারব্যাগের (অজেয় জীবাণু) প্রজননকেন্দ্র বানিয়েছে। ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশনের (ইসিডিসি) ২০২৪ সালের প্রতিবেদন জানায়, ইউরোপীয় হাসপাতালগুলোর ২৩ শতাংশ রোগী কোনো না কোনো সময় সংক্রমণে আক্রান্ত হন; যার অর্ধেকের বেশি প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াজনিত
নজরদারির প্রসঙ্গে আসলেও জানা যায়, অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি রয়েছে ঘোর অবহেলা। 

বিশ্বের অনেক দেশেরই সঠিক তথ্য নেই যে, কতটা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কোথায় সাপ্লাই বেশি হচ্ছে। ডব্লিউএইচও’র গ্লাস (GLASS) সিস্টেমে ২০২৫ সালে মাত্র ১২৭টি দেশ তথ্য জমা দিয়েছে, যার অধিকাংশই অসম্পূর্ণ। তথ্য ছাড়া নীতি নির্ধারণ অন্ধের ছোবল বই কিছু না। 

সিআরবি, সিআরপিএই, সিআরই নামক কিছু ব্যাকটেরিয়াকে ডব্লিউএইচও ২০২৪ সালে ‘ব্যাকটেরিয়াল প্রায়োরিটি প্যাথোজেন লিস্ট’ (বিপিপিএল)হিসেবে হালনাগাদ করা হয়েছে।। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো সম্প্রতি সবথেকে বেশি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স হিসেবে কাজ করছে। 

বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স একটি ক্রমবর্ধমান সংকট। আইসিডিডিআর,বি’র ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে নিউমোনিয়ার রোগীদের ক্ষেত্রে সিপ্রোফ্লক্সাসিন প্রতিরোধের হার ৮৫ শতাংশ। এক দশক আগে যেখানে এই হার ছিল ৪০ শতাংশের নিচে। মূত্রনালির সংক্রমণে (ইউটিআই) এজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধের হার ৭২ শতাংশ।

নবজাতকের রক্তের সংক্রমণে (সেপসিস) কার্বাপেনেম-রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া শনাক্তের হার ৪০ শতাংশ—যা অত্যন্ত ভয়াবহ, কারণ নবজাতকদের জন্য এটি প্রাণঘাতী।

এর পেছনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি কারণ হল প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। দেশের ৫৫ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হয় প্রেসক্রিপশন ছাড়া (ডব্লিউএইচও সমীক্ষা, ২০২৩)।মুরগি ও মাছে কোলিস্টিন ব্যবহারের পরিমাণ উদ্বেগজনক। ২০২২ সালে বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের ৩৮ শতাংশ ছিল কোলিস্টিন। কোলিস্টিন হল একটি ‘লাস্ট-রিসোর্ট’ ওষুধ।

বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান অন এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ (২০১৭-২০২২ ও ২০২৩-২০২৮) গ্রহণ করেছে। কিন্তু বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। ‘ওয়ান হেলথ’ পদ্ধতিতে মানব, প্রাণী ও পরিবেশ স্বাস্থ্য একসূত্রে না গাঁথলে এই সংকট মোকাবিলা কঠিন।

এই নীরব মহামারী মোকাবেলায় পৃথিবীকে তিনটি ফ্রন্টে একইসাথে লড়াই করতে হবেঃ  (১) নতুন ওষুধ আবিষ্কার, (২) বিদ্যমান ওষুধের সংরক্ষণ, এবং (৩) সংক্রমণ প্রতিরোধ।

নতুন ওষুধ আবিষ্কারঃ যেহেতু বাণিজ্যিক ক্ষেত্র মুনাফার ক্ষতি এড়াতে নতুন ওষুধের প্রতি আগ্রহী নয়, সেহেতু সরকারকেই এই ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যের আমাজন মডেল এতিমধ্যে সাফল্য এনেছে। এই মডেল অনুসারে, কোম্পানিগুলোকে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির পরিমাণের ভিত্তিতে না দিয়ে, ওষুধটি বাজারে ‘উপলব্ধ রাখার’ জন্য বার্ষিক ফি দেওয়া হয়। বর্তমানে এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে ফাইজার ও শিয়োনোগি (ইউকে)-এর মতো কোম্পানি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘কার্ব-এক্স’ প্রকল্পও অনুরূপ প্রণোদনা দিচ্ছে।গ্লোবাল অ্যান্টিবায়োটিক রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (জিএআরডিপি) ২০২৪ সালে ঘোষণা করেছে, তারা নতুন দুটি অ্যান্টিবায়োটিক (‘গেপোটিডাসিন’ ও ‘জোসুরাবালিন’) ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এনেছে। কিন্তু বাজারে আনতে আরও প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।

বিদ্যমান ওষুধের সংরক্ষণঃ ডব্লিউএইচও’র ‘অ্যাক্সেস, ওয়াচ, রিজার্ভ’ (AWaRe) শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, অ্যাক্সেস গ্রুপের ওষুধগুলো (যেমন অ্যামোক্সিসিলিন) সাধারণ সংক্রমণে ব্যবহার করা উচিত। এগুলোর ব্যবহারের হার কমপক্ষে ৭০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এরপর, ওয়াচ গ্রুপের ওষুধগুলো (সিপ্রোফ্লক্সাসিন, অ্যাজিথ্রোমাইসিন) সংরক্ষিত রাখা উচিত নির্দিষ্ট সংক্রমণের জন্য। বর্তমানে কিছু দেশে এগুলোর ব্যবহার ৫০ শতাংশের বেশি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রিজার্ভ গ্রুপের ওষুধগুলো (কোলিস্টিন, টাইগেসাইক্লিন) শুধুমাত্র শেষ মুহূর্তে, যখন অন্য সব ওষুধ ব্যর্থ হয়। ব্যবহারের হার ৫ শতাংশের কম হওয়া বাঞ্ছনীয়, কিন্তু কিছু দেশে তা ২০ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
সংক্রমণ প্রতিরোধঃ নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন, রোটাভাইরাস ভ্যাকসিন এবং টাইফয়েড ভ্যাকসিন সংক্রমণের সংখ্যা কমিয়ে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস করে। ল্যানসেটের ২০২৪ সালের একটি মডেলিং দেখায়, সার্বজনীন নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন প্রয়োগ ২০৫০ সালের মধ্যে এএমআরজনিত মৃত্যু ১১ শতাংশ কমাতে পারে। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করলে অন্ত্রের সংক্রমণ কমে, যা ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠার সুযোগ হ্রাস করে। এটি মৃত্যু ১৬ শতাংশ কমাতে পারে।

গ্রাম প্রজেক্টের গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, সংক্রমণ প্রতিরোধ (হাত ধোয়া, স্যানিটেশন, টিকা) এবং বিদ্যমান অ্যান্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহারের মাধ্যমে ২০৫০ সালের মধ্যে ৯ কোটি ২০ লাখ মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। পাশাপাশি নতুন অ্যান্টিবায়োটিক বাজারে আনতে পারলে আরও ২ কোটি মৃত্যু রোধ হবে।

সর্বোপরি, সচেতনতা ও আইন প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য প্রথমেই, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি নিষিদ্ধ করতে হবে।দ্বিতীয়ত, হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করতে হবে।তৃতীয়ত, কৃষিতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে আইন প্রণয়ন ও নজরদারিতবে গুরুত্ব দিতে হবে। 

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স একটি নীরব মহামারী, যা চিকিৎসকেরা খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারলেও, সাধারণ মানুষ তা উপলব্ধি করতে পারছেন না। ক্যান্সারের চেয়েও ভয়াবহ এই ঘাতক পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। এজন্য সচেতনতা, পদক্ষেপের বিকল্প নেই। আমরা কোন পোস্ট অ্যান্টিবায়োটিক যুগে প্রবেশ করতে চাই না। আমরা চাই সুস্থতা, সুস্থতার অন্তরায়কে বাধা দেয়া আমাদেরই কর্তব্য। আর এই সুস্থতার সঙ্গী অ্যান্টিবায়োটিককে সঠিক উপায়ে ব্যবহার করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এজন্য ভোক্তা হিসেবে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না কেনা এবং নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ করা হলে আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে ক্ষতি হতে অনেকাংশে বাঁচাতে পারবো।  

লাবনী আক্তার শিমলা
শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল