নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে একদিনে নতুন করে হাম আক্রান্ত হয়েছেন ২২৯ জন; আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১১ জন।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২০৯ জনে। এসময়ে আরো ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শনিবারের বুলেটিনে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৯৭ জন মারা গেছেন ঢাকায়; আর ৬৭ জন মারা গেছেন রাজশাহী বিভাগে।
এদিন সকাল ৮টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে, যাদের মধ্যে ৭৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
গেল ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৬৮ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে। আর সবচেয়ে কম চারজন ভর্তি হয়েছে রংপুরে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার ৬০৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে, তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৪৬০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকাদানের কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের ৮ বিভাগে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৪২৮ জন শিশু টিকা পেয়েছে।
এ ছাড়া দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে ১০ লাখ ৭২ হাজার ৮৯০ জন শিশু টিকা পেয়েছে।
বাংলাদেশ হাম নিয়ে ‘উচ্চ ঝুঁকিতে’ রয়েছে বলে মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
রোগটি ছড়িয়ে পড়া এবং সৃষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বাংলাদেশ কেন ‘উচ্চ ঝুঁকিতে’ সেই কারণ তুলে ধরতে গিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখানে একাধিক বিভাগে সংক্রমণ ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনাও তারা কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
ডব্লিউএইচও বলেছে, আক্রান্তদের বড় অংশের টিকা নেওয়া ছিল না। কারো কারো আবার প্রথম ডোজ নেওয়া, দ্বিতীয় ডোজন নেওয়া হয়নি।
এমআই