নিজস্ব প্রতিবেদক:
সামজিক মাধ্যম ফেসবুকে উচ্চ তাপমাত্রার আভাস দিয়ে ছড়িয়ে পড়া সর্তকতামূলক পূর্বাভাসটি বাংলাদেশের নয়। এটি ভারতের বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এছাড়া বাংলাদেশে ৪৫ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠারও সম্ভাবনা নাই বলেও জানিয়েছে সরকারি সংস্থাটি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির এমন তথ্য জানান।
তরিফুল নেওয়াজ বলেন, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পূর্বাভাসটি ভারতের। এটি সম্ভবত ভারতের একটি বেসামরিক অধিদফতর দিয়েছে। বাংলাদেশের কেউ ভিউ বাড়ানোর জন্য বাংলায় অনুবাদ করে ফেসবুকে দিয়েছে।
এই আবহাওয়াবিদ আরো বলেন, আমাদের দেশে এ পর্যন্ত রেকর্ড তাপমাত্রা হলো ৪৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেটা ১৯৭২ সালে রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়েছিল। এ বছরে এতো তাপমাত্রার রেকর্ড হাওয়ার সম্ভাবনা নাই। চলতি বছরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। আগামীকাল থেকে সারাদেশেই মোটামুটি বৃষ্টি হবে। উত্তরের দিকে আজকে হচ্ছে, দক্ষিণের দিকে ধীরে ধীরে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে এবং সিলেটের দিকে কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টিপাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং বৃষ্টিপাত যখন হয় তখন তো তাপমাত্রা অনেকটা সহনশীল পর্যায়ে চলে আসে। এই অবস্থাটা আগামী মাসের চার পাঁচ তারিখ পর্যন্ত থাকবে। সুতরাং ওই পূর্বাভাস আমাদের দেশের জন্য সত্য না।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে এবং ২৫ মে থেকে ৪ জুন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি (খোলা আকাশের নিচে) বাইরে বের হবেন না। কারণ, আবহাওয়া অধিদফতর বলেছে যে, তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে, তাই ঘরে কেউ যদি দম বন্ধ বোধ করেন তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। দরজা খুলে রাখুন, যাতে বাতাস চলাচলে সুবিধা হয়। মোবাইলের ব্যবহার কম করুন, মোবাইল ফেটে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকুন এবং মানুষকে জানান। যতটা সম্ভব ঠান্ডা পানীয় যেমন: দই, বাটার মিল্ক, আপেলের জুস ইত্যাদি ব্যবহার করুন।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল ডিফেন্স নাগরিক এবং বাসিন্দাদের নিম্নলিখিত বিষয়ে সতর্ক করেছে:
৪৭ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আগামী দিনগুলোতে কিউমুলাস মেঘের উপস্থিতির কারণে বেশিরভাগ এলাকায় শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের জন্য কিছু সতর্কতা রয়েছে।
নিম্নলিখিত দ্রব্যাদি গাড়ি থেকে সরানো উচিত-
১. গ্যাস সামগ্রী
২. লাইটার
৩. কার্বনেটেড বেভারেজ
৪. সাধারণ পারফিউম এবং অ্যাপ্লায়েন্স ব্যাটারি
৫. গাড়ির জানালা সামান্য খোলা থাকা উচিত (বাতাস চলাচলের জন্য)
৬. গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্ক সম্পূর্ণভাবে ভরাট করবেন না
৭. সন্ধ্যায় গাড়িতে জ্বালানি নিন
৮. গাড়িতে ভ্রমণ করা এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে সকালের দিকে।
বিচ্ছু এবং সাপ থেকে সাবধান থাকুন কারণ তারা তাদের গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে শীতল জায়গার সন্ধানে পার্কে কিংবা বাড়িতে প্রবেশ করতে পারে।
প্রচুর পানি এবং তরল পানীয় পান করুন, গ্যাস সিলিন্ডার রোদে না রাখা নিশ্চিত করুন, বিদ্যুতের মিটার ওভারলোড না করা নিশ্চিত করুন এবং এয়ার কন্ডিশনার শুধুমাত্র বাড়ির দখলকৃত জায়গায় ব্যবহার করুন, বিশেষ করে গরমের সময় এবং দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর ৩০ মিনিট বিশ্রাম দিন। বাইরে ৪৫°-৪৭° হলে বাড়িতে ২৪°-২৫°এ এসি রাখুন, আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। সূর্যালোকের সরাসরি সংস্পর্শে আসা এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে।
এমআই