কুবি প্রতিনিধি :
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে কুবি শাখা ছাত্রদল। সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের শীর্ষ এই দুই কর্মকর্তার পদত্যাগ ও নিয়োগ বাণিজ্যের তদন্তসহ ০৯ দফা দাবি জানানো হয়।
আজ বুধবার (৬ মে) দুপুর আড়াই টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ৯টি সুনির্দিষ্ট দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— এনআইডির তথ্য পাচারের মামলায় কুবি উপাচার্যকে দ্রুত গ্রেফতার, ২০০৯ সাল থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগের তদন্ত প্রতিবেদন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ, উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাব শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন, বিগত ১৮ মাসে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তথ্য প্রকাশ, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের অপসারণ, আবাসিক হলসমূহ ও ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মানোন্নয়ন এবং মীমাংসাযোগ্য ঘটনাকে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ইত্যাদি।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, "কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একজন ফৌজদারি মামলার আসামি। স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজিদ জয়ের সহচর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবৈধ উপাচার্য ড. মো. হায়দার আলী। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমনকি কোষাধ্যক্ষ সোলায়মানসহ প্রত্যেকটি স্তরে যারা বিগত বছরের অন্যায় ও অনিয়মের সুষ্টু বিচার করতে পারেনি বরং তাদেরসহ জামায়াতের গুপ্ত সংগঠনগুলোকে দ্বায়িত্ব দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অচিরেই অপসারণ চাই।"
তিনি আরও বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের অনিয়ম ও গভীর ষড়যন্ত্র ডাকতে সিন্ডিকেট মিটিং ঢাকায় স্থানান্তর করেছে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়।"
কুবির শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "আমরা জানতে চাই এনআইডি তথ্য পাচারকারী একজন আসামি কীভাবে এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে পারেন? তিনি তার মজলিশে বসে এক অদৃশ্য ছায়ার মাধ্যমে তার সকল দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। উনার বিরুদ্ধে ইউজিসি ও দুদক থেকে চিঠি আসলেও তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয় না। আমরা চাই তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ ও মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তার যথাযথ বিচার হোক।"
এছাড়াও দুপুর ১টার দিকে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে করেন মানববন্ধন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এমআই