বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২

বাংলাদেশে বিএনপির গায়েবানা জানাজা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মির্জা ফখরুল

সরকার পুলিশ দিয়ে দমন করতে চায় আন্দোলন,গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে

মঙ্গলবার, আগস্ট ২, ২০২২
সরকার পুলিশ দিয়ে দমন করতে চায় আন্দোলন,গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে


সময় জার্নাল ডেস্ক:বিদ্যুতের লোডশেডিং ও জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে রোববার জেলায় জেলায় সমাবেশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোলার নির্ধারিত কর্মসূচিতে পুলিশ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায় ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুর রহিম গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃতুবরণ করেন এবং ৫০ এর অধিক নেতা-কর্মী আহত হয়। বিএনপি এই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সারাদেশে গায়েবানা জানাজা এবং আজ বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ভোলায় নিহত আবদুর রহিমের স্মরণে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি মহানগর, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, কৃষক দলসহ অঙ্গসংগঠনের সহাস্রাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন। গায়েবানা জানাযা পর আবদুর রহিমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


জানাযার আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার পুলিশ দিয়ে গুলিবর্ষণ করে জানান দিয়েছে যে, তারা পুলিশ দিয়ে নির্যাতন করে আন্দোলনকে দমন করতে চায়। কিন্তু ভোলার মানুষের রক্তের মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, এদেশের মানুষ কখনো ফ্যাসিবাদী সরকার, আওয়ামী লীগ সরকারের দমননীতিকে মেনে নেবে না। তারা দেশকে মুক্ত ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য জীবন দিয়ে হলেও প্রতিষ্ঠা করবে।

তিনি বলেন, আমরা আবদুর রহিমের রক্তকে বৃথা যেতে দিতে পারি না। তাই এই শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করতে হবে। তার এই রক্ত, আত্মাত্যাগকে আমাদের ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো, দুর্বার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে পরাজিত করতে হবে।এই গায়েবানা জানাযায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, হারুনুর রশীদ, আমিরুজ্জামান শিমুল, আকরামুল হাসান মিন্টু, শায়রুল কবির খান, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, মহানগর বিএনপির আমিনুল হক, রফিকুল আলম মজনু, হাবিবুর রশীদ হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, যুবদলের মামুন আহমেদ, মোনায়েম মুন্না, কৃষকদলের হাসান জাফির তুহিন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


বিএনপির বাইরে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই গায়েবানা জানাযায় অংশ নেন।গায়েবানা জানাযার আগে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে আজকে গুম-খুন-হত্যার রাজনীতির মাধ্যমে এরা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতায় থাকতে চায়, যেতে চায় এবং অব্যাহতভাবে থাকার আর কোনো সুযোগ নেই। দেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, ঘুরে দাঁড়াবে। এদেশের মানুষ অতীতে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে, এবারো স্বৈরাচার মুক্ত করবে।


ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভোলায় বিনা উস্কানিতে পুলিশ নিরহ শান্তিপূর্ণ কর্মীদের ওপরে আক্রমণ চালিয়েছে। পার্টি অফিস থেকে মিছিল শুরু করেনি তখনই তারা অতর্কিতে গুলিবর্ষণ করে। এভাবে গুলিবর্ষণ অনাকাক্সিক্ষত এবং এটিই কেবলমাত্র নির্লজ্জ পেশীশক্তি প্রদর্শনের জন্যে, জনতার কন্ঠ স্বরকে দাবিয়ে রাখার জন্য ন্যাক্কারজনকভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।‘‘ গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুর রহিম নিহত হয়েছেন। বিএনপির সভাপতি থেকে শুরু করে প্রত্যক নেতা মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছেন। সিনিয়র নেতাদের ওপরে এভাবে হামলা অতীতে কখনো হয়নি। এভাবে দমন-পীড়ন করে বুটের নিচে পিষ্ট করে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা যাবে না- ভোলাতে এটা প্রমাণ হয়েছে।


চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, গতকাল নগরীর নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের মাঠে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির উদ্যোগে জানাজায় ইমামতি করেন মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা শহীদুল্লাহ চিশতী। এসময় মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান, বিএনপি নেতা এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এস এম সাইফুল আলম, শফিকুর রহমান স্বপন, কাজী বেলাল উদ্দিন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মো. শাহ আলম, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান, এরশাদ উল্লাহ, জয়নাল আবেদীন জিয়া, হারুন জামান, এস এম আবুল ফয়েজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নোয়াখালী ব্যুরো জানায়, দুপুরে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপন প্রমুখ।খুলনা ব্যুরো জানায়, দুপুরে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে খুলনা মহানগর ও জেলার বিএনপির উদ্যোগে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজা শেষে নেতৃবৃন্দরা বলেন, গণতন্ত্র হত্যা করে অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে বর্তমান সরকার নানান ধরনের পন্থা অবলম্বন করছে। গণবিক্ষোভের বিস্ফোরণ ঠেকানোর জন্যই দলীয় চেতনায় সাজানো প্রশাসন ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্র দিয়ে মাঠে নামিয়েছে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রতিদিনই আমাদের নেতাকর্মীদের রক্ত ঝরছে। বিএনপির কর্মসূচির কথা শুনলেই আ. লীগ ও আওয়ামী প্রশাসন বিচলিত হয়ে পড়ে। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির এজাজ খান, মহানগর সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনসহ প্রমুখ।


বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। নগরীতে জেলা ও মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান পিন্টু। বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেবচ্ছাসেবক দল সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক জাবের আব্দুল্লাহ সাদি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল আউয়াল শাহিন সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

ঝালকাঠি জেলা সংবাদদাতা জানান, জেলায় গায়েবানা জানাজা ও কালোব্যাজ ধারণ কর্মসূচি পালন করেছে জেলা বিএনপি। গতকাল বাদ জোহর শহরের পালবাড়ি এলাকার মজিদের সামনে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সৈয়দ হোসেন, সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাতা হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান সহ প্রমুখ।


শেরপুর জেলা সংবাদদাতা জানান, বেলা সাড়ে এগারোটায় শেরপুর জেলা বিএনিপর সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেলের বাসভবেনর সামনে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জেলা বিএনিপর সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক, ফজলুল হক লাভলু, এসএম শহিদুল ইসলাম ভিপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আওয়াল চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আতাহারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্রামুজ্জামান রাহাত, ছাত্রদলের সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নিয়ামুল ইসলাম আনন্দসহ বিএনিপ ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতা জানান, জেলার প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজন করে জেলা বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঝিনাইদহে অনুষ্ঠিত জানাযায় জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপ্পুসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।ইবি সংবাদদাতা জানান, পুলিশের অন্যায় ভাবে গুলি বর্ষণ ও নির্বিচারে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদল গতকাল ‘মত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরালের পাদদেশ থেকে মিছিলটি শুরু করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শেখ পাড়া বাজারে এসে শেষ হয়। এ সময় অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ জানান তারা। মিছিলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ ও সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুনের নেতৃত্বে যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, রোকনউদ্দীন, সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল। গতকাল দুপুরে শ্রীনগর উপজেলার ছনবাড়ি এলাকায় এক্সপ্রেসওয়েতে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক মুন্না, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদ মাসুমসহ প্রমুখ।


 


এসএম



Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২২ সময় জার্নাল