সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

শিল্পী মমতাজের ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ ও কিছু কথা

বুধবার, এপ্রিল ১৪, ২০২১
শিল্পী মমতাজের ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ ও কিছু কথা

মাসুদ আলম : মমতাজ বেগম, মানিকগঞ্জের মেয়ে। লোকসংগীত শিল্পী হিসেবে বাংলাদেশে তুমুল জনপ্রিয় একটি নাম। তার রয়েছে ৭০০ টিরও বেশি একক প্রকাশনা এছাড়া শতাধিক যৌথ প্রকাশনার গানের এলবাম। উপমহাদেশ তো বটেই সারা পৃথিবীতে এলবাম প্রকাশের দিক থেকে তার ধারেকাছেও কেউ নেই। এটি একটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। তার গাওয়া গান কানে আসেনি এরকম মানুষ এদেশে আছে কিনা সন্দেহ।
সম্প্রতি (১০ এপ্রিল'২১) তিনি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ডক্টর অব মিউজিক' ডিগ্রি অর্থাৎ ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার এই ডিগ্রি অর্জনটিকে ভালো চোখে দেখছে না বাংলাদেশের অনেক মানুষ।
প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে স্বল্প শিক্ষিত এই শিল্পী তার সংগীত প্রতিভার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ পৃথিবীর যে কোন বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়ার যোগ্য বলে আমি (মাসুদ আলম) মনে করি।
কিন্তু তাহলে তার ডিগ্রি নিয়ে কথা উঠছে কেন?
এর একটি সরল উত্তর হলো- ডিগ্রি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়টির আসলে কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই!
আমার ধারণা বাংলাদেশের কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যদি তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি পেতেন বা দেওয়া হতো তাহলে কোন প্রশ্ন উঠতো না।
একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলে নেয়া দরকার যে- সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়না, এক্ষেত্রে কোন গবেষণাও করতে হয়না। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় শুধু মাত্র ব্যাক্তির বিশেষ প্রতিভা/ বিশেষ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান বিবেচনা করে। শিল্পী মমতাজ বেগমের সংগীত প্রতিভা নিয়ে কোন মানুষের মনেই প্রশ্ন নাই, তাহলে তাকে দেয়া ডিগ্রি নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠবে?
আসুন একে একে জেনে নেয়া যাক সেই প্রশ্নের কারণ গুলো-
১) ডিগ্রি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়টির আসলে কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই! এটি একটি ওয়েব সাইট ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র।
২) ভারতের দ্যা ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (UGC) অ্যাক্ট- ১৯৫৬/সেকশন ২২(১) অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, অথবা UGC অ্যাক্ট-১৯৫৬/৩ এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়, অথবা সংসদীয় কোনো আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানই শুধু ডিগ্রি প্রদান করতে পারবে। UGC অ্যাক্ট-১৯৫৬/ সেক-২৩ এ বলা হয়েছে, উপরিউক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া আর কেউ নামের সাথে “বিশ্ববিদ্যালয়” শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে না। গ্লোবাল হিউম্যান পিস বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের ইউজিসি অ্যাক্ট-১৯৫৬ অনুযায়ী এটি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই নয় এবং এটি কোনো ডিগ্রিও প্রদান করতে পারেনা।
২) পৃথিবীর সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েভ সাইটের শেষে থাকে-(.edu) কিন্তুু তামিলনাড়ুর গ্লোবান হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে আছে- ghpuedu.org- এর মানে এটি একটি অর্গানাইজেশন বা সংস্থা, কোন বিশ্ববিদ্যালয় নয়। এই ডেমেইনটির মেয়াদ মাত্র ২ বছর অথচ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ডোমেইন অনেক দীর্ঘমেয়াদি করা হয়।
৩) ভারতে মোট ৯৭৯টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্র পরিচালিত- ৫৪টি, ভারতের বিভিন্ন রাজ্য পরিচালিত-৪২৫টি, প্রাইভেট-৪২৫টি, এবং ইউজিসি অ্যাক্ট-১৯৫৬/সেক-৩ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গণ্য করা হয় আরও ১২৫টি প্রতিষ্ঠানকে। এর মধ্যে গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটির কোনো নাম নেই।
৪) বিশ্ববিদ্যালয়টির কোন স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই, কোন ঠিকানাও ব্যবহার করা হয়নি। ভারতের বাইরে তিনটি দেশে ক্যাম্পাসের ঠিকানা দেওয়া হলেও সেগুলো ভূয়া। পশ্চিমবঙ্গের একটি ঠিকানা দেওয়া হয়েছে- জানবাজার, তালতলা, কোলকাতা-৭০০০১৩, এই ঠিকানাটিও ভূয়া।
৫) গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে গেলে দেখা যায় তারা কোন আন্ডারগ্রাজুয়েট ও গ্রাজুয়েট প্রদান করেনা। শুধু অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কোর্স করিয়ে থাকে তবে অনেকগুলো বিষয়ে সম্মানসূচক PhD ডিগ্রি প্রদান করে। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এটা অবিশ্বাস্য বিষয়, কল্পনা করাও বোকামি।
৬) গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটি’র ওয়েবসাইটে স্পট করে বলা হয়েছে- “To raise funds for charity and to cover research development expenses the details of which may be given in the university website.” (অর্থাৎ দাতব্য কাজ কিংবা গবেষণা উন্নয়ন ব্যয় মিটানোর অর্থ যোগাড়ের জন্য তারা সম্মানসূচক PhD ডিগ্রি প্রদান করে।)
সম্মানসূচক পিএইচডি ডিগ্রি প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কোনো প্রসেসিং ফি নেয়া হয় কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা লিখেছে- “Yes, this the university collects to cover the expenses of a public function and a wide press coverage for the awardees if it is conducted.”
অর্থাৎ তারা অনুষ্ঠান এবং মিডিয়া কাভারেজের জন্য সম্মানসূচক পিএইচডি ডিগ্রি যাদেরকে দেয়া হয় তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে থাকে। এছাড়া প্রশাসনিক ব্যয়, উদযাপন ব্যয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগকে তহবিল সরবরাহের জন্য ফি প্রদান করতে হয়। সুতরাং তাদের বক্তব্য থেকেই সহজ কথায় বলা যায় যে- তারা টাকার বিনিময়ে সম্মানসূচক ভূয়া ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়ে থাকে।
যাই হোক, যে কোন ব্যক্তিরই সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ এবং আনুষ্ঠানিকতার আগে ঐ বিশ্ববিদ্যালয় সমন্ধে ভালো ভাবে জেনে নেয়া উচিত বলে মনে করি।


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.



স্বত্ব ২০২১ সময় জার্নাল | ডেভেলপার এম রহমান সাইদ