বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১

তাহলে সাধারন মানুষের কি অবস্থা!

ডাক্তার হয়েও মায়ের চিকিৎসা নিয়ে এত ভোগান্তি!

শনিবার, মে ২২, ২০২১
ডাক্তার হয়েও মায়ের চিকিৎসা নিয়ে এত ভোগান্তি!

ডা. ফারহানা জামান :
 
আমার আম্মু গত ৪ই মে,২০২১ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

উনি CKD, HTN, Bronchial Asthma, rheumatoid arthritis, ILD (১বছর)  ভুগছিলেন।

উনি ILD এর জন্য মারা যান নাই, উনি লাস্টে CKD followed by Heart failure এ মারা যান।

ওনাকে দীর্ঘদিন সুনামধোন্য সকল বড় বড় প্রফেসর স্যারকে দেখিয়েছিলাম।

কিডনি এর জন্য মিরপুরের একজন রিনাউন্ড প্রফেসর স্যারকে দেখাতাম।

আম্মু এর ক্রিয়েটিনিন ৫ হচ্ছে, ৬ হচ্ছে এভাবে বেড়েই যাচ্ছে, সাথে হাইপারকেলেমিয়া ( potassium 7.)

ও হচ্ছে মাঝে মাঝে, সাথে প্রেশার আনকন্ট্রোল্ড।

স্যার বলেন, এইটা দেন কমে যাবে, এই মেডিসিন দেন কমে যাবে।

এইভাবে একটার পর একটা মেডিসিন দেন কমেনা, আবার যাই, 

এভাবেই একদিন প্রেশার ২৩০/১৫০ নিয়ে আজমল হাসপাতালে ভর্তি করাই।

আমি স্যারকে বলেছিলাম, স্যার ডায়ালিসিস স্টার্ট করি তাহলে।

উনি বলেন, প্রেশার কন্ট্রোল হলে, লাগবেনা। পেশেন্ট এর তো কোন সিম্পটম ডেভেলপ করে নাই। কেন ডায়ালাইসিস করবো?

ওখানে স্যার যে এন্টি হাইপারটেন্সিভ দেন, ওগুলোতে প্রেশার কমে গেল ১২০/৭৫-৮০ হল।

ওই টাইমে ক্রিয়েটিনিন 9. আম্মু এর অনেক শ্বাসকষ্ট ও ছিল।

স্যার বললেন, প্রেশার কমলে সবই কমবে বলে আমার ধারণা।

এর মধ্যে যেহেতু প্রেশার  কমলো আমরা বাসায় চলে আসলাম। শ্বাসকষ্ট এর জন্য ডাঃ দেখাতে বলে দিয়েছিলেন স্যার। বিএসএইচ এ দেখালাম। প্রফেসর আলী হোসেন স্যারকে অনেক বছর যাবত দেখাই। স্যার পেশেন্টকে খুব ই যত্ন সহকারে দেখেছেন। আমার স্যারকে নিয়ে বা ওনার ট্রিটমেন্ট নিয়ে কোন কমপ্লেইন্টস নাই। আল্লাহ ওনার ভাল করুন।

আম্মুর রিউমেটয়ড আর্থ্রাইটিস এর জন্য যে প্রফেসরকে দেখাতাম গ্রীন লাইফে, ওনাকে কোন ভাবে রিচ করতে না পেরে, ওনার মেসেঞ্জারে নক দেই।

উনি রিপ্লাই দেন, বলেন what's app এ ভিডিও কলের মাধ্যমে দেখবে। ওনার এসিস্টেন্ট আমাকে নক দিবেন।
সেই নক আজও দেন নাই! কিন্তু ফেবুকে কিন্তু উনি সারা দিনই এটা ওটা শেয়ার দিতেই থাকেন। সামাজিক কল্যান কাজ করেই যাচ্ছেন! আমি আর নক দেই নাই।

হাস্পাতাল থেকে বাসায় আসার কয়েকদিন পরেই আম্মুর সারা শরীর ফুলে গেল। ওজন দশ কেজি বেড়ে গেল। অনেক শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। নেফ্রলজিস্ট স্যারকে ফোন দেই, ওনার নাম্বার এ। আমার কল ঢুকেই না। মে বি ব্লক করে রেখেছেন।

পরবর্তীতে কোন উপায় না দেখে,  একটা সনামধন্য হাস্পাতালের আই সি ইউ তে এডমিট করি। ওখানে ওনারা দেখে বলেন,  এই পেশেন্ট এর ইমার্জেন্সি ডায়ালিসিস লাগবে। প্রেশার এত কমার কারণে হার্ট ফেইলার ডেভেলপ করেছে। কেন এত লেইট করা হয়েছে, ডায়ালাইসিস কেন করা হয় নাই এত দিন? আমি বললাম, স্যার আগের স্যার বলেছেন এখনি লাগবেনা। ডায়ালাইসিস করেও আমার আম্মু কে বাঁচাতে পারি নাই।

৫ম ডায়ালিসিস এর মধ্যেই উনি চলে যান। আম্মু এর ফিস্টুলা করানো ও হয় নাই। আমি যখন ফিস্টুলা এর ডিসিশান নিয়েছি, ওই দিন ই উনি আই সি ইউ তে এডমিট হইছে।
আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ 

১) ডায়ালাইসিস করার ক্ষেত্রে,  কেন বিভিন্ন নেফ্রোলজিস্ট বিভন্ন মতামত দেন? কেন ক্রিয়েটিনিন ৯ হয়ার পর ও ডায়ালাইসিস ডিসিশন দেওয়া হলনা?
 
২) কি সিম্পটম আশা করতেছিলেন উনি, যে তখনও ডিসিশন নেন নাই?

৩) আমাদের সিনিয়র প্রফেসর স্যাররা তো দেখি সারাদিনই ফেবু এ বসে বসে, এটা ওটা শেয়ার দেন। ওনাদের কি পেশেন্ট এর প্রতি আর একটু যত্নবান হওয়া উচিত না?

৪) আপনি যদি অনেকই ব্যস্ত থাকেন, তাহলে কেন বলেন না যে, আমি এখন আর পেশেন্ট দেখছিনা। খামোখা ভিড় করবেন না।

সবশেষে একটাই কথা, সবাইকেই একদিন মরে যেতে হবে। স্যার আপনারা যে ব্যবহারটা করলেন আমার মা এর সাথে, ওই রকম ব্যবহার যদি আপনি বা আপনার সন্তান পান কখনো তখন হয়তো আপনার বুঝতে পারবেন। 

আমার কোন কম্পলেইন্টস নাই, শুধুই অনুশোচনা। কেন শুধু একজন নেফ্রোলজিস্ট এর উপর ই ভরসা করেছিলাম? কেন আর ও কয়েক জায়গায় গেলাম না! ডাক্তার হয়েই যদি নিজের মা কে নয়ে এই ভোগান্তি হয়, তাহলে সাধারন মানুষের কি অবস্থা!

এই জন্যই মানুষ বিদেশে যায় ট্রিটমেন্ট নিতে, কারণ আমাদের দেশের কথিত কয়েকজন নেক্সট টু গড চিকিৎসকরা মাঝে মাঝে নিজকে লেভেল টু গড ভেবে বসেন ।

সবাই আমার মা প্রয়াত ফিরোজা নাহারের জন্য দোয়া করবেন, যেনো আল্লাহ তাকে বেহেশত  নসীব করেন।

ডা. ফারহানা জামান 
এফসিপিএস (ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারী)
কনসালটেন্ট, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল।


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.



স্বত্ব ২০২১ সময় জার্নাল | ডেভেলপার এম রহমান সাইদ