সাইফ ইব্রাহিম, ইবি প্রতিনিধি:
মাহে রমজানের পবিত্রতা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিসৌধের বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। এসময় সাথে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে একে একে বিভিন্ন সমিতি, পরিষদ/ফোরাম, অনুষদ, হল, বিভাগ, ছাত্র সংগঠন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে ১মিনিট নিরবতা পালন ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এরপর সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন উপাচার্য। এ সময় উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তাঁর সাথে ছিলেন। পরে জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব, জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরাম, শাখা ছাত্রদল পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় উপাচার্য বলেন, ৭১-এ একজন মেজর হয়েও মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান ইতিহাসে যে ভূমিকা পালন করে গেছেন, তা চিরস্মরণীয়। তাঁর ঘোষণায় অনুপ্রাণিত মানুষ অস্ত্র ধারণ করে মরণপণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মহান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তিনি ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন। শহীদ জিয়াউর রহমান একই সাথে একটি দেশের স্বাধীনতার ঘোষক এবং এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, এটা আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্যের ব্যাপার। বক্তব্য শেষে শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এর আগে সকাল ১০টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য যথাক্রমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর আনন্দের প্রতীক বেলুন উড়িয়ে দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে সেখান থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ স্মৃতিসৌধে গিয়ে সমবেত হয়। এদিকে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসে এক মিনিট প্রতীকী ব্ল্যাক-আউট করা হয়েছে। এছাড়া গণহত্যায় নিহত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় মসজিদে পবিত্র কুরআনখানি অনুষ্ঠিত হয়।
এমআই