বুধবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৬
মুহা: জিললুর রহমান, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
বনদস্যুদের দাবিকৃত মুক্তিপণের টাকা দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন সুন্দরবনে মৎস্য শিকারে গিয়ে অপহৃত সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলের ১৪জন জেলে। মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) বিভিন্ন সময় তারা সুন্দরবন থেকে লোকারয়ে ফিরে আসেন। তবে, মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় এখনো জিম্মি করে রাখা হয়েছে অন্তত ছয়জন জেলেকে।
ফিরে আসা জেলেরা জানান, আট সদস্যের জলদস্যু দলটি নিজেদের ‘ডন বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে মুক্তিপণের দাবিতে তাদের জিম্মি করেছিল। তারা জনপ্রতি ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করেছে। মুক্তিপণ পরিশোধ করে মঙ্গলবার বিভিন্ন সময়ে তারা লোকালয়ে পৌঁছেছেন।
জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে ইব্রাহিম ৪০ হাজার, দিলীপ ৪০ হাজার, উজ্জ্বল ৪০ হাজার এবং আইয়ুব আলী, আশিকুর ও হাফিজুর ২৫ হাজার
টাকা করে মুক্তিপণ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।
জেলেদের অভিযোগ, মুন্সিগঞ্জের মৌখালী গ্রামের সফিকুল ওরফে ‘ভেটো সফিকুল’ এবং আটিরউপর গ্রামের শাহাজান এই দস্যু দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মুক্তিপণ কম দেওয়ায় রাজেত আলী নামের এক জেলেকে ছাড়া হয়নি। এছাড়া মীরগাং গ্রামের মুজিবুর ও হরিনগর গ্রামের নজরুল ইসলামসহ ছয়জন জেলে এখনো দস্যুদের জিম্মায় রয়েছেন।
বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে এসব জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। গত ২২ জানুয়ারি রাতে বন বিভাগের আওতাধীন মামুন্দো, চুনকুড়ি ও মালঞ্চ নদীসহ কলাগাছিয়া খাল থেকে অস্ত্রের মুখে তাঁদের ২০জন জেলেকে অপহরণ করে জলদস্যুরা। অপহরণের পর একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে দস্যুরা মুক্তিপণের টাকা দাবি করে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এ কে এম ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছিল। ১৪ জন জেলে মুক্তি পাওয়ার খবর তাঁরা লোকমুখে জানতে পেরেছেন।
এ্মআই