বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কর্তৃক অপহরণের অভিযোগ নাকচ করলেন সেই শিক্ষক

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৯, ২০২৬
ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কর্তৃক অপহরণের অভিযোগ নাকচ করলেন সেই শিক্ষক

তালুকদার হাম্মাদ, ইবি প্রতিনিধি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে ওঠা শিক্ষক অপহরণের অভিযোগ নাকচ করেছেন সেই শিক্ষক। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) অভিযোগ আসার কয়েকঘণ্টা পর সেই আহ্বায়কের ফেসবুকে লাইভে এসে অপহরণের অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান সেই শিক্ষক। 

জানা যায়, এদিন আনুমানিক বেলা ৯টার দিকে ঝিনাইদহের ট্যুরিজম বিভাগের শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে তার নিজ বাসা থেকে মোটরসাইকেলে নিয়ে যান সাহেদ আহম্মেদ। এ নিয়ে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত হলে দুপুর সাড়ে ১২টায় সাহেদ আহম্মেদ ওই শিক্ষককে তার বাসায় দিয়ে আসেন। একই সঙ্গে, নিজস্ব ফেসবুক আইডির লাইভে জানান সেই শিক্ষকের অবস্থান। 

এসময়, এ লাইভে সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘আমি সকাল ৯টায় সাহেদ ভাইয়ের সাথে বাইরে যাই। আবার সাড়ে ১২টায় সাহেদ ভাই নিজে এসে বাড়িতে দিয়ে যাই। আমি এখন বাসায় আছি, সবাই আছে, কোনো সমস্যা নাই।’ পরবর্তীতে তিনি তার নিজস্ব ফেসবুক আইডির লাইভে এসেও একই কথা বলেন। 

এদিকে এ ব্যাপারে শিক্ষক জুয়েলের ভাই জানান, সকালে লক্ষ্য করছিলাম ভাইকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার জন্য কল দিচ্ছিলো। কিন্তু, তিনি অসুস্থ থাকাতে, প্রথমে যেতে পারবেন না বলে ওনাদের জানান। কিন্তু ওনার বারবার কল দেওয়াতে অসুস্থ অবস্থায় ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়েন। কিন্তু ভাই বাসার নিচে যাওয়ার পরই একটি মোটরসাইকেলের শব্দ শুনি। তখন ভাবছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাড়ি পাঠিয়েছে ওনাকে নিতে। কারণ মোবাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যিনি কল দিয়েছিলেন তিনি গাড়ি পাঠাচ্ছেন এমনই বলেছিলেন। কিন্তু এর প্রায় আধাঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসমত নামের এক গাড়ি চালক আমাকে কল দিয়ে ভাইয়ের অবস্থান জানতে চান। তিনি বলেন, তিনি নাকি ভাইকে নিতে আসছেন। তখন আমি তাকে জানাই ভাই চলে গেছে। এরপর থেকে ভাইয়ের নিজস্ব ও অফিসের মোবাইল নম্বরে কল দিচ্ছিলাম, কিন্তু তার ফোন বন্ধ বলছিল।

এদিকে সকালে শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোটরসাইকেলে নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ছাত্রদল আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ চালিত মোটরসাইকেলের পিছনে ট্যুরিজম বিভাগের সভাপতিকে নিয়ে যাচ্ছেন। 

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বুধবার ১০টায় ট্যুরিজম বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড ছিল।  বিভাগের সভাপতির উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে তিনি না আসায় নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক পরে বিভাগের সভাপতি ছাড়াই বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় এবং লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘আজ সকালে ট্যুরিজম বিভাগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জুয়েল নিরাপত্তাহীনতায় থাকায় আমাকে সকালে ফোন দিয়েছিল এবং আমি নিজে সশরীরে গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসি। সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম জুয়েল আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত ছোটোভাই। 

এছাড়া তিনি ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্টার ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে হুমকি ধামকি দিয়েছে। গতপরশু, সোমবার প্রক্টরের নির্দেশে ট্যুরিজম বিভাগে গুটিকয়েক লোক পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করে তাদের ৪ জন শিক্ষককে জোরপূর্বক মারধরের হুমকি দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের প্ল্যানিং করেছে। ৪ জন শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি এবং সিসি ক্যামেরা ফুটেজ জোরপূর্বক ডিলিট করা হয়েছে। এজন্য নিরাপত্তার স্বার্থে জুয়েল আমার কাছে ছিল। জুয়েল এই মুহূর্তে তাঁর নিজ বাসা ঝিনাইদহে অবস্থান করছে।’

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘গত দুইদিনের মধ্যে ওই শিক্ষকের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি। ছাত্রদল আহ্বায়ক অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘অপহরণের উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে তিনি কোনোভাবেই বাসা থেকে তুলে নিয়ে যেতে পারেন না।’


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল