রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিজু-বৈসু উৎসব শুরু

রোববার, এপ্রিল ১২, ২০২৬
সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে বিজু-বৈসু উৎসব শুরু

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানে সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসিয়ে উৎসর্গের মাধ্যমে চাকমা সম্প্রদায়ের বিজু এবং তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বৈসু উৎসব শুরু হয়েছে। 

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে সাড়ে ৭টায় বান্দরবানের বালাঘাটা পুরোনো নদীঘাট এলাকায় গঙ্গা মায়ের উদ্দেশে ফুল ভাসাতে অংশ নেয় চাকমা-তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণী, শিশু কিশোর এবং বিভিন্ন বয়সের শতশত নারী-পুরুষ।

স্থানীয় চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের লোকজন জানায়, নতুন বছরকে বরণ এবং পুরোনো বছরকে বিদায় জানানোর সামাজিক এ উৎসবকে চাকমা সম্প্রদায় বিজু এবং তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় বৈসু নামে যুগ যুগ ধরে পালন করে আসছে। এবারও তিনদিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে জেলা সদরের বালাঘাটা ও মাঝেরপাড়া এলাকায়। এছাড়া পাহাড়ি পল্লীগুলোতেও চলছে একই উৎসব। 

প্রথমদিনে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা ভোর বেলায় ঘুম থেকে উঠে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ফুল সংগ্রহ করে। সংগ্রহের পর ফুলের একটি অংশ মন্দিরে গৌতম বুদ্ধের প্রার্থনায় ব্যবহার করে। আরেকটি অংশ নদীতে বা পানিতে অবস্থানরত গঙ্গা মায়ের চরণে বিশ্ববাসীর শান্তি ও মঙ্গলময় সুন্দর জীবন গড়তে উৎসর্গ করা হয়। এটিকে নদীতে ফুল ভাসানো বলেও সম্বোধন করে।

উৎসবে ফুল ভাসাতে আসা চাকমা সম্প্রদায়ের তরুণী লিলি চাকমা ও জয়ন্তী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, উৎসবের প্রথমদিনে নদীতে ফুল ভাসিয়ে উৎসর্গের মাধ্যমে পুরোনো বছরের যতসব অমঙ্গল এবং দুঃখ ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পরেরদিন ধুয়ে মুছে ফুল দিয়ে ঘর সাজানোর মধ্যদিয়ে নতুন বছরকে বরণ করা হয়। এটি চাকমা-তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক ঐতিহ্যগত উৎসব হিসেবে যুগ যুগ ধরেই পালন করা হচ্ছে।

তারা বলেন, পাহাড়ি পল্লীগুলোর বাড়িতে বাড়িতে চলে ঐতিহ্যবাহী পাচনসহ মজাদার সব খাবার তৈরি করে অতিথি আপ্যায়ন। বিহারগুলোতে ধর্মীয় প্রার্থনা, বয়স্কদের প্রণাম করে আশীর্বাদ গ্রহণ। দল বেধে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি ঘুরে বেড়ানোর আনন্দও উপভোগ করা হয়।

উৎসব আয়োজন কমিটির সমন্বয়ক উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গা বলেন, পাহাড়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বর্ষবরনের প্রধান এই সামাজিক উৎসবকে সমষ্টিগতভাবে বলা হয় বৈসাবি। এ উৎসবকে চাকমাদের ভাষায় বিজু, তঞ্চঙ্গ্যাদের ভাষায় বিসু, ত্রিপুরাদের ভাষায় বৈসুক, মারমাদের ভাষায় সাংগ্রাই নামে ডাকা হয়। এরমধ্যে বৈসুকের ‘বৈ’, সাংগ্রাইয়ের ‘সা’ ও বিজু, বিষু থেকে ‘বি’ নিয়ে উৎসবটি সংক্ষেপে ‘বৈসাবি’ বলা হয়।

একে 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল