রেজাউল করিম রেজা, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
নানা আয়োজনে কুড়িগ্রামে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস। ২০০১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অনুপ্রবেশ রুখতে গিয়ে শহীদ হন তিন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদস্য।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে জেলার রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় বড়াইবাড়ী যুদ্ধে শহীদ তিন তৎকালীন বিডিআর সদস্যের স্মরণে নির্মিত স্মৃতি ফলকে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হয়। এসময় বিএনপিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিবসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদদের স্মরণে একটি স্থায়ী স্মৃতি ফলক নির্মাণ এবং দিবসটিকে সরকারিভাবে পালনের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী সীমান্তে তৎকালীন বিডিআর, গ্রামবাসী ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। সেদিন ভোররাতে বিএসএফ বিনা উস্কানিতে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে বড়াইবাড়ী গ্রামে অতর্কিত হামলা চালালে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়।
এ সময় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের সাহসী প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
সংঘর্ষে ৩৩ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়েক ওহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান এবং ২৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিপাহী আব্দুল কাদের শহীদ হন। অপরদিকে বিএসএফের ১৬ সদস্য নিহত হয় বলে জানা যায়।
প্রতিবছর দিবসটি পালনের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন স্থানীয়রা।
একে