খালেদ হোসেন টাপু, রামু প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের রামু থানায় কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) আনোয়ার হোসেন এখন মাদক কারবারি, ইয়াবা গডফাদারসহ বিভিন্ন অপরাধী চক্রের জন্য এক বড় আতঙ্কের নাম। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে অপরাধ দমন, মামলা নিষ্পত্তি এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।
গত এক বছরে এসআই আনোয়ার হোসেন ১৫০টিরও বেশি নিয়মিত মামলা এবং ৩৫টি সি আর মামলা তদন্ত সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। এছাড়া ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মিত ও মাদক মামলায় তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দী রেকর্ড করিয়ে মূল আসামিদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনেও তিনি সফল। তার উদ্যোগে ১২০টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৫ জন ভিকটিম উদ্ধার এবং একাধিক মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে প্রতিমাসে জিআর ও সিআর মামলার সাজা ওয়ারেন্ট সফলভাবে তামিল করছেন তিনি। এছাড়া ১৫টি চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন, আলামত উদ্ধার এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসামি গ্রেপ্তার তার দক্ষতারই প্রমাণ।
তবে তার এই সাফল্যই এখন হয়ে উঠেছে একাধিক অপরাধী চক্রের অস্বস্তির কারণ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়াবা গডফাদারসহ অন্যান্য অপরাধী গোষ্ঠী তাকে রামু থানা থেকে সরিয়ে দিতে সক্রিয়ভাবে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া সংবাদ ছড়ানোর অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে এসআই আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমি আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্ব পালনের কারণে কোনো অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রে আমি বিচলিত নই। সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে থেকেই কাজ করে যাব।”
সচেতন মহল মনে করছে, একজন দক্ষ কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার এ ধরনের অপচেষ্টা কেবল ব্যক্তি নয়, বরং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও হুমকি। তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সততা, পেশাদারিত্ব এবং অপরাধ দমনে দৃঢ় অবস্থানের কারণে এসআই আনোয়ার হোসেন আজ রামু থানার একটি নির্ভরযোগ্য নাম—যাকে ঘিরে জনমনে যেমন আস্থা তৈরি হয়েছে, তেমনি অপরাধীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ভীতি।
এমআই