এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট প্রতিবেদক :
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ এ জাতীয় ও খুলনা বিভাগীয় পর্যায় শ্রেষ্টত্বের গৌরব অর্জন করে মোরেলগঞ্জবাসীকে ধন্য করেছে শিক্ষক বাবা ও তার শিশু মেয়ে। বাবা-মেয়ের এ সাফল্যের কারণে মোরেলগঞ্জ সদরের ২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
খুলনা বিভাগীয় পর্যায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কৃতিমান এ শিক্ষক হলেন মোরেলগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাকির হোসেন। আর জাতীয় পর্যায় কৃতিত্ব অর্জনকারী বহু প্রতিভার অধিকারী শিশু শিক্ষার্থী হলো ওই প্রতিভাবান শিক্ষক মো. জাকির হোসেনের মেয়ে মোরেলগঞ্জ লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী সানজিদা বিনতে জাকির।
মোরেলগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক মো. জাকির হোসেন তাঁর শিক্ষকতা জীবনে যোগ করলেন এক নতুন পালক। তিনি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬-এ পর্যায়ক্রমে উপজেলা ও জেলা পেরিয়ে খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ও ‘শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক’ (বিদ্যালয়) নির্বাচিত হয়েছেন। গত বুধবার খুলনা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অঞ্চলের পরিচালক (কলেজ) প্রফেসর ড. আনিস আর রেজা এক জমকালো অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে বিভাগীয় শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। এর আগে গত ২২ এপ্রিল বুধবার বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক জনাব গোলাম মো. বাতেন তাঁকে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি প্রদান করেন।
অপর দিকে বাবার ছায়ায় মেয়েরও জয়জয়কার: বাবার সাফল্যের সমান্তরালে জাতীয় পর্যায়ে নিজের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে শিক্ষক জাকির হোসেনের মেয়ে সানজিদা বিনতে জাকির। মোরেলগঞ্জ লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী (মাদ্রাসা) নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি হামদ, না’ত ও ক্বিরাত—তিনটি ইভেন্টেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। পরবর্তীতে জেলা পর্যায়েও তিনটি বিষয়ে সাফল্যের ধারা বজায় রাখে সে। বিভাগীয় পর্যায়ে হামদ ও না’ত ইভেন্টে শ্রেষ্ঠ হয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সানজিদা। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় ‘না’তে রাসুল (স.)’ ইভেন্টে সারা দেশের মধ্যে ৩য় স্থান অধিকার করে সে মোরেলগঞ্জ তথা সমগ্র খুলনা বিভাগের নাম উজ্জ্বল করেছে।
আনন্দ ও অনুপ্রেরণা বাবা ও মেয়ের এই জোড়া সাফল্যে মোরেলগঞ্জ লতিফিয়া কাামিল মাদ্রাসা, মোরেলগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক - শিক্ষার্থীসহ পুরো এলাকাবাসী আনন্দিত। আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অভিনন্দনে ভাসছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, "শিক্ষক হিসেবে আমার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করা। বিভাগীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি আমার দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিল। আর মেয়ের এই অর্জনে আমি গর্বিত। সে ভবিষ্যতে যেন একজন সুনাগরিক হয়ে দেশের সেবা করতে পারে, এটাই আমার প্রার্থনা।"
স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, মফস্বল শহর থেকেও নিষ্ঠা ও পরিশ্রম থাকলে যে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা সম্ভব, জাকির হোসেন ও তাঁর মেয়ে সানজিদা তা প্রমাণ করে দেখালো। এই সাফল্য স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
এমআই