আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আমেরিকার প্রস্তুত করা খসড়া চুক্তির বিপরীতে ইরানের দেওয়া জবাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর সঙ্গে ফোনে এক সংক্ষিপ্ত আলাপে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের পাঠানো প্রস্তাব তার পছন্দ হয়নি। এর আগে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের জবাব দিয়েছিল তেহরান।
প্রায় ১০ দিন অপেক্ষার পর রোববার ইরানের জবাব হাতে পেয়েছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউস আশা করেছিল, তেহরানের অবস্থানে চুক্তির পথে এগোনোর ইঙ্গিত মিলবে। কিন্তু ট্রাম্পের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া উল্টো কথাই বলছে।
ইরানের চিঠিতে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত না জানালেও ট্রাম্প বলেন, 'ওদের চিঠি আমার পছন্দ হয়নি। এটা একেবারেই যথাযথ নয়। ওদের জবাব আমার পছন্দ হয়নি।'
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, 'গত ৪৭ বছর ধরে ওরা (ইরান) বহু দেশকে নানাভাবে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছে।'
অ্যাক্সিওসের সঙ্গে ফোনালাপের কিছুক্ষণ পরেই নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন: 'আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত "প্রতিনিধিদের" পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি—পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।'
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের জবাবে সবার আগে যুদ্ধ থামানো এবং সেই যুদ্ধ যে আর শুরু হবে না—তার নিশ্চয়তা আদায়কেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের পাঠানো চিঠিতে তেহরানের ওপর আমেরিকার আরোপ করা যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে চাওয়া হয়েছে।
তাসনিমের প্রতিবেদন অনুসারে, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই আমেরিকার নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের প্রস্তাব হচ্ছে—প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে, তারপর শুরু হবে ৩০ দিনের আলোচনা। তবে শর্ত হলো, ৩০ দিনের ওই আলোচনা চলাকালীনই ইরানের তেল বিক্রির ওপর থেকে সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।
এছাড়া এমওইউ সইয়ের পর বিদেশের ব্যাংকে আটকে থাকা সব সম্পদ ছাড়ের দাবিও জানিয়েছে ইরান।
ইরানের এসব শর্ত মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই আলাদা। এর পাশাপাশি পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান কোনো নমনীয় অবস্থান দেখাবে কি না, সে বিষয়েও ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি।
ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, রোববারই তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে ইরানের চিঠির প্রসঙ্গও উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'খুব ভালো আলাপ হয়েছে। আমাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক আছে। তবে ইরান পরিস্থিতি সামলানো একান্তই আমারর কাজ, অন্য কারও নয়।'
এদিকে ট্রাম্পের মন্তব্যকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ ইরান। তাসনিমকে এক ইরানি সূত্র বলেছে, 'ইরানের জবাব পাঠানোর পর আমরা মাত্রই আমেরিকার তথাকথিত প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া দেখেছি। ওটার কোনো গুরুত্ব নেই। ট্রাম্পকে খুশি করার জন্য ইরানের কেউ প্রস্তাব লেখে না। আলোচনাকারী দল কেবল ইরানি জনগণের স্বার্থ ঠিক রেখেই খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করবে। ট্রাম্প তাতে অসন্তুষ্ট হলে বুঝতে হবে আলোচনা সঠিক পথেই এগোচ্ছে।'
ট্রাম্প আলোচনা চালিয়ে যাবেন নাকি সামরিক পদক্ষেপের পথে হাঁটবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সমাজমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ট্রাম্পের এবার সামরিক ব্যবস্থার কথা ভাবা উচিত।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় যে 'প্রজেক্ট ফ্রিডম প্লাস' ট্রাম্প স্থগিত করে দিয়েছিলেন, গ্রাহাম সেই অভিযান ফের শুরু করার কথা বলেছেন।
এমআই