হাম্মাদ, ইবি প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন যাবৎ আসন সংকটসহ নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হল। এদিকে লিগ্যাল সিট না থাকা স্বত্ত্বেও অবৈধভাবে এ হলে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তবে, বিষয়টি হল প্রভোস্টের অনুমতি সাপেক্ষেই ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শিবির নেতা মুজাহিদ।
জানা গেছে, সম্প্রতি হলটির আসন বরাদ্দ নিয়ে চলছে বহুমুখী ঝামেলা। হল প্রশাসন আসন বরাদ্দ দিলেও অনেক শিক্ষার্থী এখনো নির্ধারিত কক্ষে উঠতে পারেননি। অন্যদিকে, হলের বিভিন্ন কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিতভাবে কিছু শিক্ষার্থী ও অন্য হলের আবাসিকরা অবস্থান করছেন। আর এই অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের মাঝে শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামের নাম উঠে এসেছে। শাখা শিবিরের এই নেতা মূলত সাদ্দাম হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই শহিদ জিয়াউর রহমান হলের ৩২৩ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন তিনি। নিজের সংগঠনের হল শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্যই তিনি জিয়া হলে অবস্থান করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে ৩২৩ নম্বর কক্ষের একটি ফাঁকা সিটে বরাদ্দ পেয়েছেন আল-কুরআন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম সিদ্দিকী। তবে তিনি তার বরাদ্দকৃত রুমে না থেকে অন্যথায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছ।
হলটির ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, সিট পাওয়ার পরও আমরা নির্ধারিত কক্ষে উঠতে পারছি না। অথচ কিছু কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। তাছাড়া অন্য হলের শিক্ষার্থীরাও এই হলে অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রশাসন কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে নতুন করে সিট বরাদ্দ দিচ্ছে না। কিন্তু একই সঙ্গে অননুমোদিতভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে হলের কর্তাব্যক্তিরা। প্রশাসনের এমন উদ্যোগ নিতান্তই বৈষম্যমূলক ও অবিবেচনাপ্রসূত।
এ ব্যাপারে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন,” মূলত সাদ্দাম হলে আমার এটাচমেন্ট। এটাও সত্য যে জুলাই বিপ্লবের পর হল প্রভোস্টের অনুমতি নিয়ে আমি জিয়া হলে ছিলাম। তবে বেশ কিছুদিন পূর্বে হল থেকে নেমে গিয়েছি। বিশেষ কোনো কারণে জিয়া হলে উঠেছিলাম ব্যাপারটা এমন না। মূলত এই হলটা আমার ভালো লাগত। তাছাড়া তৎকালীন প্রোভোস্ট স্যারও আমার বিভাগের শিক্ষক। স্যারের অনুমতিতেই ম্যানেজমেন্ট ১৯-২০ সেশনের শাহরিয়ারের সঙ্গে রুম এক্সচেঞ্জ করে তার রুমে ছিলাম। বর্তমানে আমি মেসে আছি।
এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, হলের সিট সংক্রান্ত সমস্যাগুলো কর্মকর্তাদের কিছু ভূলের কারণে হয়েছে। ইতোমধ্যে তাদের শোকজ করা হয়েছে। অতিদ্রুত অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্য হলের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া হল প্রশাসনের নোটিশ ছাড়াই নিজ উদ্যোগে টাকা দিয়ে যারা হলে উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমআই