হাম্মাদ, ইবি প্রতিনিধি:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈবিছাআ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব বাঁধন বিশ্বাস স্পর্শের দেওয়া হুমকির বিভিন্ন স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে ইবি সমাচারসহ কয়েকটি ফেইসবুক পেইজে এগুলো ভাইরাল হয়। ঘটনাটি শিক্ষার্থীদের মাঝে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্ক্রিনশটগুলোতে দেখা যায়, আফরিন সিমি নামের এক শিক্ষার্থীকে বাঁধন ‘লোকজন রেডি থাকবে, তোমার বন্ধুও কিছু করতে পারবে না’, ‘ভিসিকে কল দিয়ে শোনো যে, আমি কে!!’, ‘এখনও পর্যন্ত আমার কথায় ইবিতে যেকোনোকিছু হতে পারে‘, ‘আমার আত্মসম্মানে আঘাত করলে কাউকে ছাড়ি না’, ‘প্রটেকশন নিয়ে এসো কিন্তু’ ইত্যাদি হুমকি দিয়েছে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী সিমি নিজের অসুস্থতার কারণে ক্যাম্পাসে আসতে না পেরে রিটেক পরীক্ষার ফরম পূরণ করার ব্যাপারে নিজ বিভাগের বন্ধু ও বৈবিছাআ ইবি শাখার নেতা বাঁধনের সহযোগিতা চান। পরে বাঁধন সম্মত হলে গত ২৭ এপ্রিল রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাকে বিকাশের মাধ্যমে ১৫০০ টাকা পাঠান।
প্রথমে ২৮ এপ্রিল ফর্ম ফিলাপ করে দেওয়ার কথা থাকলে বাঁধন তা ৩ মে সম্পন্ন করে দেওয়ার কথা দেন। এদিনই ছিল ফর্ম ফিলাপের লাস্ট ডেট। তবে এদিনও না করে বিভাগ সভাপতির সাথে কথা বলে পরবর্তী ৫ মে ফর্ম ফিলাপ করে দিবেন বলে কথা দেন বাঁধন।
এদিকে ৪ দিন পর ৯ মে সিমি জানতে পারেন যে তার ফর্ম ফিলআপ হয়নি। পরে তিনি বিভাগের সভাপতির সাথে কথা বলে আরও ২ দিন সময় পায়। পরবর্তীতে ১০ মে বাঁধনকে এ ব্যাপারে পুনরায় তাড়া দিলে গরম সূরে কথা বলা শুরু করেন। পরবর্তীতে ১১ মে সিমি পুনরায় বাঁধনের সাথে যোগাযোগ করলে এসব হুমকি দেন বাঁধন।
ভুক্তভোগী আফরিন সিমি বলেন, বাঁধন সমম্বয়ক হোক আর যায় হোক আমাদেরকে এভাবে হেনস্তা করতে পারে না। ও আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়েছে। এমনকি প্রোটেকশন নিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে বলেছে। এমনকি ‘এখনও পর্যন্ত আমার কথায় ইবিতে অনেক কিছু হয়’ এবং ‘ভিসিকে কল দিয়ে শুনো আমি কে’ বলেও হুমকি দিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বৈবিছাআ নেতা বাঁধন বলেন, ও আমার ক্লোজ বান্ধবী। ওর সাথে আমি একটু গরম সূরে কথা বলতেই পারি। ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশট গুলো সত্য। তবে আমি আগেই হুমকি দেয়নি। মূলত আমি ব্যস্ত থাকায় ওর ফর্ম ফিলআপটা করতে দেরি হচ্ছিল। পরে গতকাল প্রথমে ওর হাজবেন্ড আমাকে থ্রেট দেয়। যেকারণে আমিও থ্রেট দিছি।
এ বিষয়ে ইবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বেও উক্ত নেতার বিরুদ্ধে ছাত্র শক্তির হ্যাঁ ভোট প্রচারণা সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে বাঁধা ও সেখান থেকে চেয়ার চুরির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) হলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গভীর রাত পর্যন্ত প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত থাকায় “প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ওপেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তো সবার সামনে লুচ্চামি করতে পারবে না, কিন্তু মেয়েদের হলে ঠিকই পারবে” বলে মন্তব্য করেও ক্যাম্পাসে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।
একে