মো. মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির নলছিটি ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ঝালকাঠি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আ’লীগের সভাপতি সরদার মো: শাহ আলমের ঘনিষ্ঠজন বাহাউদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে নিজের আখের গোছাতে বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকরের সময় নলছিটির এই মাদরাসার সভাপতি করেন জেলা আ’লীগের সভাপতি সরদার মো: শাহ আলমকে। অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিনের এসব অনিয়ম-দূর্ণীতির বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই মাদরাসারই ইবতেদায়ী শাখার ক্বারী মোঃ শামসুল হক জোমাদ্দার। তিনি ১ সেপ্টেম্বর ২০১২ খ্রি. থেকে নলছিটি ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় ইবতেদায়ী ক্বারী পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
জেলা প্রশাসক বরাবর তার দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা যায়, সরকার বিধি মোতাবেক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এর এমপিও অনুযায়ী ক্বারী মোঃ শামসুল হক জোমাদ্দার-এর বেতন গ্রেড-১৪ হলেও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন তাকে ইবতেদায়ী শাখার অন্য একজন শিক্ষক মোঃ আব্দুল রহিম মুন্সী, পিতাঃ মৃতঃ আঃ হক মুন্সী, বেতন-গ্রেড-১৫ সিরিয়াল ইনডেক্স নং-২০১৬৮৮৬-এর বেতন শীটে স্বাক্ষর করতে বলেন। ক্বারী মোঃ শামসুল হক জোমাদ্দার সেখানে স্বাক্ষর করতে না চাইলে তাকে ভয়ভীতি ও চাকুরীচ্যুত করার হুমকি প্রদন করেন ফেসিস্ট সরকারের দোসর অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন।
এ ছাড়া অধ্যক্ষ আওয়ামীলীগের আমলে সরদার মো: শাহ আলমকে মাদ্রাসার সভাপতি নিয়োগ দিয়ে, সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহন করেছেন। দেশের পট পরিবর্তনের পরেও তিনি পকেট কমিটি নিয়োগ দেন। একই ব্যক্তিকে সহ-সভাপতিসহ বিদ্যুৎসাহী দুটি পদ দেন অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন।
গত কিছুদিন পূর্বে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নলছিটি উপজেলার অধীনে কোর্ট মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতিব মাও: রেজাউল করিম এর কাছ থেকে নগদ ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেন অধ্যক্ষ। বিষয়টির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরে ওই ঘুষের টাকা ফেরত দেন তিনি। অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন নলছিটি থানা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব ছিলেন। সেখানেও তার অনিয়মের কথা জানাজানি হলে মসজিদের মুসল্লীরা তাহার পিছনে নামাজ পড়া ছেড়ে দিলে সেখান থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নলছিটি ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার শিক্ষক মোঃ সেলিম খান (ইনডেক্স নং-১৩০৭২০৮) কে বিধি বহিভূত উচ্চতর পদে পদায়ন করে তাকে সরকারের অনেক টাকা আত্মসাৎ করতে সহযোগীতা করেন অধ্যক্ষ। বিধি মোতাকে ফাজিল মাদ্রাসায় ০১ জন সমাজিক বিজ্ঞান শিক্ষক থাকে। মাছুমা (ইনডেক্স নং ২১০২৯২০) নামে একজন সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষক থাকাবস্থায় অর্থের বিনিময়ে মাদরাসায় অরেকজনকে সামাজিক বিজ্ঞানে পদায়ন করেন।
নলছিটি ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার পাশাপাশি নুরানী মাদ্রাসা প্রাতিষ্ঠা করেন স্থানীয় নুরানী শিক্ষক মোঃ মোসলেম উদ্দিন। তার সাথেও বেতনের টাকা নিয়া প্রতারনা করেন অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন।
বিষয়টি জানতে নলছিটি ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এমআই