মোঃ জুয়েল রানা:
বাংলাদেশে মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন হয়, “মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন-১৯৭৪” অনুযায়ী।উক্ত আইনের ৩ নং ধারা অনুযায়ী বিবাহ এবং ৬ ধারা অনুযায়ী তালাক নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় কাজীর সময় স্বল্পতার কারণে কিংবা বর বা কনে পক্ষের চতুরতায় নিকাহনামা পূরণ না করে অথবা আংশিক পূরণ করে বর বা কনের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
এক্ষেত্রে বর এবং কনে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতের ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
নিকাহনামা ফরমের ১৩ নং কলামে দেনমোহরের পরিমান উল্লেখ থাকে। মনে করেন আপনি একটি ফাঁকা নিকানামা ফরমে বা নিকানামার ১৩ নং কলাম ফাঁকা রেখে আপনার বিবাহের রেজিস্ট্রেশনের স্বাক্ষর দিয়েছেন । আপনার বিয়ের দেনমোহর ছিল ৫ লক্ষ টাকা পরবর্তীতে কোন কারণবশত আপনাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। আপনার স্বামী বা স্ত্রী তখন চাইলে কাজীর সাথে যোগসাজেস করে কাবিননামায় ৫ লক্ষ টাকার পরিবর্তে দেনমোহরের পরিমাণ ১৫ লক্ষ টাকা বা ৫০ হাজার টাকা করে দিতে পারবে।
যদি নিকানামাটি আংশিক পুরানকৃত বা সঠিকভাবে পূরণকৃত হয়ে না থাকে। সেক্ষেত্রে যদি বিষয়টি এমন ভাবে থাকে ৫,০০,০০০/- টাকা শুধু অংকে লেখা তখন আপনার স্ত্রী কাজীর সাথে যোগাযোগ করে সেই ৫,০০,০০০/- আগে একটি ১ সংখ্যা যোগ করে সেটি ১৫,০০,০০০/- লক্ষ টাকা করে নিতে পারে ।
অথবা নিকাহনামার ১৫ নং কলামের “ বিবাহের সময় দেনমোহরের কোন অংশ পরিশোধিত হইয়াছে কিনা? যদি হইয়া থাকে উপহার পরিমাণ কত?”................
এখানে যদি বর অথবা কনে পক্ষ তাদের সুবিধামতো অংক বসিয়ে দেয় সে ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের জন্য তা বিপদের কারণ হতে পারে। মনে করেন আপনার বিবাহের সময় আপনার দেনমোহরের অর্ধেক অর্থাৎ ৫ লক্ষ টাকার অর্ধেক ২.৫ লক্ষ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল কিন্তু সেটা নিকাহনামার ১৫ নং কলমে উল্লেখ নেই, সে ক্ষেত্রে কনে পক্ষ চাইলে সেটি পরিশোধিত হয় নাই মর্মে লিখতে পারে, অথবা বরপক্ষ চাইলে সেখানে সম্পূর্ণ পরিশোধিত অর্থাৎ ৫ লক্ষ টাকা ও লিখতে পারে ।
অংকে লেখার পাশাপাশি কথায় লেখতে হবে। যেমন ৫,০০,০০০/- ( পাঁচ লক্ষ) টাকা ।
লেখক: মোঃ জুয়েল রানা,
অ্যাডভোকেট, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা ।
ইমেইল: advjewelrana247@gmail.com