শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

দায় কার : রোগীর লোকেদের আক্রোশের শিকার ডাক্তার-নার্স!

সোমবার, আগস্ট ৯, ২০২১
দায় কার : রোগীর লোকেদের আক্রোশের শিকার ডাক্তার-নার্স!

অধ্যাপক ডা. কবীর জুয়েল :

রাশিয়ান লেখক Leo Tolstoy বলেছিলো, "Two Powerful Warriors are Patience and Time"
রাষ্ট্রকে অবশ্যই সময়ের আবশ্যকতা অনুধাবন করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে, ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করতে হবে আর তাৎক্ষনিক জরুরী বিষয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা নিতে হবে। নইলে এ সময়ে সবচেয়ে বড় দায়ভার এসে পড়বে মিড-লেভেলের চিকিৎসকদের ওপর।

দেশ এখন অতিমারী-র শীর্ষে অবস্থান করছে। সাধারণ মানুষ করোনা মহামারীতে দিশেহারা। এ সুযোগে আবার রিজেন্ট শাহেদের মতো বাটপার লোকদের আবির্ভাব হচ্ছে। এ সময় বনানী-র Prava Health - এ র্যবের অভিযান চালিয়ে ভূয়া করোনা রিপোর্ট প্রদানকারী ব্যক্তিদের গ্রেফতার ছিলো প্রত্যাশিত। কিন্তু পুরো জাতি লক্ষ্য করলো, বনানী থেকে মহাসমারোহে "মদের গ্লাস-বোতল" জব্দ করার দৃশ্য,এবং দিনব্যপি তা সিনেম্যাটিক স্টাইলে চ্যনেলগুলোতে প্রচারিত হতে লাগলো। নগরীর অভিজাত এলাকায় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় Residencial Brothels চলে। ,এগুলো তো হঠাৎ গতকাল গজায়নি। সুতরাং এ আর নতুন কি ?

যা হোক জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে এসব বিষয়ে আলোচনার রুচি বা ইচ্ছা কোনটাই অন্তত আমাদের চিকিৎসক সমাজের নেই।
আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষ সদস্যরা যদি এখন এ সবে ব্যস্ত থাকে, আর টীকাকেন্দ্রগুলোতে দালালদের দৌরাত্মে  সাধারন মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে- এ দায়ভার কার? কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইনের স্বচ্ছতা আনয়নে তাদের জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে। কেবল দু-চারটে আনসার আর স্কাউট বয়দের দিয়ে এসব হবেনা,বরং করোনার দ্রুত বিস্তার ঘটবে।

নগরীর প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোয় করোনা চিকিৎসার আড়ালে মাত্রাতিরিক্ত ভূতুড়ে বিলের শিকার ভূক্তভোগী রোগী ও তাদের আত্মীয়রা; ক্লিনিকগুলোর বেশীরভাগের মালিক ব্যবসায়ী, সেখানে কর্তব্যরত সাধারণ চিকিৎসকগণের নীতি নির্ধারনে কোন ভূমিকাই নেই, অথচ রোগীর লোকেরা জুনিয়র চিকিৎসক আর নার্সের ওপর হামলা চালিয়েছে।

্যব এর পক্ষ থেকে ম্যজিস্ট্রেট নিয়ে করোনা চিকিৎসার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্পোরেট হাসপাতালসহ প্রতিটি ক্লিনিকের বিলিং সেকশনে প্রত্যক্ষ অভিযান প্রয়োজন। সরকার কর্তৃক অক্সিজেনের ঘন্টা প্রতি বিল নির্ধারণ করা আছে। প্রয়োজনীয় কিছু টেস্টের দাম নির্ধারণ করা আছে। ঔষধের বিষয়েও নির্দিষ্ট প্রটোকল আছে। কিন্তু কটা ক্লিনিক তা মানছে। বেশিরভাগই 
অসৎ বাণিজ্যে ব্যস্ত।

শুধুমাত্র উত্তরার কয়েকটি ক্লিনিকেই ইতোমধ্যে ১০০ জন রোগী করোনায় মৃত্যু হয়েছে। যার কোন সঠিক তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দেয়া হয়নি এবং রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে আদায় করা হয়েছে কাড়ি কাড়ি টাকা। উত্তরার গরীব-ই-নেওয়াজ এভিনিউ এর এক ক্লিনিকে 'সবুজ পিরিস' নামের এক রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর পরামর্শ ছাড়াই ৮০৮০০ টাকা মূল্যের ইঞ্জেকশন দেয়া হয়। মোট সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয়। তাদের অব্যবস্থাপনায় ক্ষিপ্ত হয়ে
রোগী নার্স-বয়দের মারতে উদ্যত হয়। ডিউটিরত ডাক্তার সে স্থানে না থাকায়, সে এ যাত্রায় বেঁচে যায়।

পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে ICU -তে ১০ ঘন্টা বেঁধে রেখে ইউনাইটেড হসপিটালে পাঠালে, সেখানে সে মারা যায়।

একজন সাইকিয়াট্রিস্ট হিসেবে আমি মনে করি, রোগীটি ঐ মূহুর্তে 'Acute Stress Reaction' - বা তাৎক্ষনিক চাপজনিত মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভূগছিলো, মিড-লেভেলের চিকিৎসক, নার্সদের হাতের নাগালে পেয়ে এ রোগী বা রোগীর লোকেরা তাদের ক্রোধের প্রশমন ঘটান,আরো কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিকসহ চাঁদপুর সরকারী জেনারেল হাসপাতাল, নোয়াখালী হাসপাতাল ইত্যাদি ক্ষেত্রেও অনেকটা একই রকম সিনারিও ছিলো।
অবৈধ আই পি টিভিগুলোতে করোনা টেস্টের ভূয়া বিজ্ঞাপন; মানহীন যন্ত্রপাতি অথবা করোনা চিকিৎসার অত্যবশ্যকীয় যন্ত্রসমূহ (Central Oxygen,Highflow Nasal Canula,V-Pep,Ventilator etc) ছাড়াই করোনা রোগী ভর্তি করে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে এ নামধারী ক্লিনিকগুলো।

এ সময় অক্সিজেন এর সরবরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অক্সিজেন সিলিন্ডারের যথাযথ বন্টন ও দাম নিরীক্ষন এবং নতুনভাবে শুরু হওয়া করোনার ভূয়া রিপোর্টকারীদের বিচারের আওতায় আনা র্যব ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সকল সদস্যদের দায়িত্ব। এর দায় কোনমতেই কেবল চিকিৎসকরা নেবেনা।

লেখক : Prof.M.S.Kabir Jewel, Visiting Professor, AMC & AIMST, Kedah, Malaysia & Former Consultant Psychiatrist, Ministry of Health, Saudi Arabia. 



Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.



স্বত্ব ২০২১ সময় জার্নাল | ডেভেলপার এম রহমান সাইদ