বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আমাকে ষড়যন্ত্র করে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে — সদ্য বিদায়ী বেরোবি রেজিস্ট্রার

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১৮, ২০২৬
আমাকে ষড়যন্ত্র করে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে — সদ্য বিদায়ী বেরোবি রেজিস্ট্রার

ইবতেশাম রহমান সায়নাভ, বেরোবি প্রতিনিধি : 

“জাতীয় নির্বাচনের পরদিনই আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নানা অভিযোগ আনা হয় এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সামনে আনার কারণেই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে”—এমন অভিযোগ করেছেন সদ্য বিদায়ী বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রেজিস্ট্রার ড. হারুন-অর-রশীদ।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় রংপুর নগরীর ওয়েস্টার্ন কুইসিন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বে একদিনেই প্রায় ৪৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নজিরবিহীন। এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একাধিকবার তদন্ত করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিভিন্ন নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন বলেও জানান।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ ইউসুফের নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইন্টারমিডিয়েটে ২.৯০ জিপিএ থাকা সত্ত্বেও সেটি ঘষামাজা করে ৩.১০ দেখিয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নেওয়া হয়েছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে ওই সার্টিফিকেট জাল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক তাবিউর রহমানের নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক কলিমউল্লাহ নিজেই বিভাগীয় প্রধান, অনুষদের ডিন ও উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে একদিনেই তাঁকে পদোন্নতি দেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ড. হারুন-অর-রশীদ বলেন, ঘটনার দিন কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তা হেলমেট পরে হামলায় অংশ নেন। তদন্ত কমিটির ফুটেজ তিনি নিজে দেখেছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার আসামিদের বাঁচাতে ফুটেজ ডিলিট করার জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। মামলাটি দুর্বল করতেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের পর দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে অফিসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে, গাড়িতে উঠতে দেওয়া হয়নি এবং নিরাপত্তা চেয়েও সহযোগিতা পাননি। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ট্যাগ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে অপসারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। বর্তমানে তিনি নিয়মিত হুমকি পাচ্ছেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন—
১. শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের বিচার নিশ্চিত করা।
২. শিক্ষক সমিতি ও ছাত্র সংসদ চালু করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
৩. তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও রায় বাস্তবায়ন।
৪. বর্তমান ও সাবেক উপাচার্যের কার্যক্রম তদন্তে কমিটি গঠন এবং দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশ।
৫. সব অনিয়মের নিয়োগ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত এবং নিয়োগ বোর্ড পুনর্গঠন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০তম সিন্ডিকেট সভায় ড. হারুন অর রশিদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন যাবত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা সদন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিলেন শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এমআই 


Somoy Journal is new coming online based newspaper in Bangladesh. It's growing as a most reading and popular Bangladeshi and Bengali website in the world.

উপদেষ্টা সম্পাদক: প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ

যোগাযোগ:
এহসান টাওয়ার, লেন-১৬/১৭, পূর্বাচল রোড, উত্তর বাড্ডা, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ
কর্পোরেট অফিস: ২২৯/ক, প্রগতি সরণি, কুড়িল, ঢাকা-১২২৯
ইমেইল: somoyjournal@gmail.com
নিউজরুম ই-মেইল : sjnewsdesk@gmail.com

কপিরাইট স্বত্ব ২০১৯-২০২৬ সময় জার্নাল