জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ৭নং চরবানী ইউনিয়নের মধ্যের চর উত্তর পাড়া গ্রামে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে প্রায় ৩০ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে মহর আলী (৪৫) ও তার পরিবারসহ আশপাশের কয়েকটি পরিবার চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মহর আলীর পরিবারসহ আশপাশের কয়েকটি পরিবার বাড়ি থেকে বের হওয়া ও দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য উক্ত রাস্তা ব্যবহার করে আসছিল। কিন্তু হঠাৎ পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ ওই রাস্তার উপর স্থাপনা নির্মাণ করে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয়ভাবে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দিন দিন আরও বেশি সমস্যায় পড়ছে।
রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। তাদের এখন পুকুরপাড় ও ক্ষেতের আইল দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এছাড়া অসুস্থ, বৃদ্ধ ও শিশুদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরি চিকিৎসা সেবা নেওয়াও হয়ে পড়েছে অত্যন্ত কঠিন।
ভুক্তভোগী মহর আলী জানান, “প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছি। হঠাৎ করে পারিবারিক বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষ স্থাপনা তৈরি করে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। পরে আমি ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করি।”
তিনি আরও জানান, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হলে গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দুপুরে প্রতিপক্ষের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, একই দিনের সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষ পুনরায় টিনের বাউন্ডারি ও স্থাপনা নির্মাণ করে আবারও রাস্তা দখল করে নেয়।
মহর আলীর দাবি, “আমরা বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষ আমাদের হুমকি দেয়। তারা বলে, রাস্তায় স্থাপনা নির্মাণে বাধা দিলে এর ফল ভালো হবে না। এখন আমরা পরিবারসহ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের মো. আব্দুল বারেক (৪২) পিতা মো. সাগর আলী (৫৮) দাবি করেন, আমি ১০ শতাংশ জমি কওলা করছি, বাড়িঘর করছি, বাড়িঘর করার পর দেখা গেছে জমিটা বিআরএস এ ১নং খতিয়ানে রেকর্ড ভূক্ত হয়েছে, আমি রেকর্ড সংশোধনের মামলা করেছি, আদালতে মামলাটি চলমান, কিন্তু মহর আলী'রা চলাচলের জন্য রাস্তা চাচ্ছে, জামালপুর সদরের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাহেব বলেন আমার জমিটা খাস, আমি আদালতে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করছি, দলিল আছে, চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও আছে, কেমনে করে আমার বিল্ডিং, বসতবাড়ি ভেঙ্গে রেখে যায়।
যে জমিতে যাতায়াতের পথ রয়েছে, সেই জমি সিএস, আরোয়ার (৬২) রেকর্ডভুক্ত হলেও বিআরএস রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে আদালতে রেকর্ড সংশোধনের মামলা চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জামালপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দার বলেন, যদি আবারও স্থাপনা নির্মাণ কেউ করে থাকে- আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
জানা গেছে, বন্ধ করে দেওয়া রাস্তাটি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এছাড়া অন্য একটি পরিবারের সদস্য মো. ইদ্রিস (৪৫), পিতা জালাল মোগল, যিনি স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত, তিনিও সেখানে টিনের স্থাপনা নির্মাণে যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আমাদের তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত এই রাস্তা পুনরুদ্ধার করে নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং স্থায়ী সমাধান দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন সমস্যা আর না হয়।
এমআই