আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন গণমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এ প্রকাশিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এক পৃষ্ঠার সমঝোতার স্মারক সংক্রান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর খবর ‘ভুয়া’। যুদ্ধ সমাপ্তিতে অ্যাক্সিওস এর সংবাদকে মার্কিন হোয়াইট হাউজের যোগসাজশে বানানো ‘মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণার’ অংশ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।
ঘালিবাফ ব্যঙ্গাত্মকভাবে অ্যাক্সিওস-কে ‘ফক্সিওস’ বলে উল্লেখ করে বলেন, সংবাদমাধ্যমটি হোয়াইট হাউসের বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘মনগড়া’ খবর প্রকাশ করছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ বাঘের ঘালিবাফ লিখেছেন, “অপারেশন ট্রাস্ট মি ব্রো ব্যর্থ হয়েছে। এখন আবার নিয়মিত ‘অপারেশন ফক্সিওস’-এ ফেরা হচ্ছে।”
বুধবার (৬ মে) অ্যাক্সিওস ইরান-মার্কিন যুদ্ধ সমাপ্তির দ্বার প্রান্তে বলে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির শর্তে ইরান সম্মত হয়েছে।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করতে এবং বিস্তৃত পরমাণু আলোচনার পরিমিতি নির্ধারণের জন্য এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক নিয়ে চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক চুক্তিটি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করবে এবং আরও বিস্তারিত চুক্তির জন্য আলোচনার মেয়াদ ৩০ দিন বর্ধিত করবে।
এই খসড়া শর্তাবলির আওতায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে স্থগিতাদেশে রাজি হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং ইরানের জব্দ করা তহবিলের বিলিয়ন ডলার মুক্ত করবে। উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্ত নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করবে।
ওই প্রতিবেদনে ইউরেনিয়াম নিয়ে আরও দাবি করা হয়েছিল, সমৃদ্ধকরণ স্থগিতাদেশের মেয়াদ অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ইরান প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের মেয়াদ প্রস্তাব করেছিল অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ২০ বছর। প্রতিবেদন অনুযায়ী এমন পর্যায়ে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কমপক্ষে ১২ বছরের মেয়াদের জন্য স্থগিত করা হতে পারে। তবে ভিন্ন এক সূত্র ১৫ বছরকে সম্ভাব্য সমঝোতা হিসেবে দাবি করেছে।
গালিবাফ দাবি করেন, অ্যাক্সিওস-এর সংবাদ ওয়াশিংটনের ‘মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণার’ অংশ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে বড় ধরনের ব্যর্থতার পর এ ধরনের খবর ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
উল্লেখ্য, ‘অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানটি ৪ মে হরমুজ প্রণালি এলাকায় শুরু হয়। তবে দুই দিন পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানটি স্থগিত করেন।
ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের শুরুর দিক থেকেই ওই কৌশলগত জলপথে ইরান নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। মার্কিন হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়। একই দিনে মিনব শহরে শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই হামলার প্রতিবাদে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে এবং ইসরায়েল ১০০ দফা আক্রমণ চালায় ইরান।
৩৯ দিন পর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমন অবস্থায় ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর ২১ এপ্রিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তবে তেহরান একতরফা এই সিদ্ধান্ত স্বীকার করেনি।
এমআই