আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ হয়তো এখনও শেষ হয়নি। কিন্তু এটি ইতিমধ্যেই ভূরাজনৈতিক ব্যবস্থার বড় পরিবর্তনগুলোকে স্পষ্ট করে তুলেছে। অতীতে সরকার পরিবর্তনের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তি সহজেই বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালিয়ে আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো রাষ্ট্রগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। কিন্তু ইরানের শাসকব্যবস্থা তাদের জন্য অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মানবজীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করেছে, ইরানের বহু শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবুও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পতন ঘটেনি। যুদ্ধের আগে অভ্যন্তরীণ বিভাজন থাকলেও বিদেশি আগ্রাসনের মুখে সরকারের সমালোচক অনেক ইরানিও জাতীয় পতাকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।রাজনৈতিক সংবাদ
সম্প্রতি ইসলামাবাদে এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ওই অঞ্চলে আরও পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ভূমিকা কমে আসবে। অন্যদিকে ইরান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো দেশগুলো নিজেদের পারস্পরিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করবে।
বাস্তবে এই যুদ্ধ আমেরিকার শক্তির সীমাবদ্ধতাও তুলে ধরেছে এবং এটি একটি অবনতিশীল সাম্রাজ্যের চিত্র নির্দেশ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে, তাদের সামরিক দুঃসাহসিক অভিযানের ফল খুব কমই ইতিবাচক হয়েছে। তারা নিজেদের তৈরি এক জটিল সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও সহজে বের হতে পারছে না।
আরব রাষ্ট্রগুলোর অনেকের কাছেও এখন একটি কঠিন বাস্তবতা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে- বহু বিলিয়ন ডলারের মার্কিন নিরাপত্তা ছাতাও তাদের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
বাস্তবতা হলো, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রকৃত নিরাপত্তা অঙ্গীকার ইসরাইলকে ঘিরেই। অন্য সব জোট মূলত স্বার্থভিত্তিক এবং প্রয়োজনে ত্যাগযোগ্য। তবুও এসব বাস্তবতার পরও কিছু উপসাগরীয় রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা সম্ভবত ভুল পক্ষের ওপর বাজি ধরছে।
যুক্তি দিয়ে বলা যায়, বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী রক্ষাকবচের যুগ শেষ হয়ে আসছে। সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর উচিত নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নেয়া এবং পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা। এক্ষেত্রে ইরান, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো, তুরস্ক এবং বৃহত্তর আরব ও পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ একসঙ্গে এগিয়ে এসে নিজেদের বিষয় নিজেরাই পরিচালনা করতে পারে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বিরোধগুলোও সৌহার্দ্যপূর্ণ উপায়ে সমাধান করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে পাকিস্তান প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। একইভাবে সৌদি আরব ও ইরানও পুরো যুদ্ধজুড়ে যোগাযোগের পথ খোলা রেখেছে। এসব প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। নিরাপত্তার জন্য বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর করা কখনোই ভালো কৌশল নয়। তাছাড়া এই অঞ্চলে ইসরাইলকে স্থায়ী প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেয়া নিশ্চিতভাবেই বিপর্যয়ের সূত্র তৈরি করবে। জায়নবাদী রাষ্ট্রটি ‘ভাগ করো এবং শাসন করো’ নীতিতে বিশ্বাসী এবং আরও মুসলিম ও আরব ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার আশা করে। তাই তাদেরকে এই অঞ্চলে আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ দেয়া উচিত নয়।
এমআই