সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
চিকিৎসক না হয়েও নামের আগে এমবিবিএস ডিগ্রি ব্যবহার ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ইয়াসিন আলী পলাশ নামের এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম ও ভ্রাম্যমান আদালত নলতা হাটখোলা এলাকায় মানব সম্পাদ হেলথ কেয়ার সেন্টারে অভিযান চালিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেন।
সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ইয়াসিন আলী পলাশ কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা বাজার সংলগ্ন হাটখোলা জামে মসজিদের পাশে মানব সম্পাদ হেলথ কেয়ার সেন্টারে নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে আসছিলেন।
জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাটকেখালি গ্রামের মতি সরদারের ছেলে তন্ময় সরদার (৩০) তীব্র পেটে ব্যথা নিয়ে গত ১ এপ্রিল কালীগঞ্জের নলতা বাজারে অভিযুক্ত ইয়াসিন আলী পলাশ এর চেম্বারে যান। ৩০০ টাকা ভিজিট দিয়ে দেখানোর পর উক্ত ভুয়া চিকিৎসক রোগীকে ‘ন্যাপ্রসিন প্লাস ৩৭৫ মিলি গ্রাম’ সহ বেশ কিছু উচ্চমাত্রার ওষুধ প্রেসক্রিপশন করেন। উক্ত ওষুধ খাওয়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় তন্ময় সরদারের সমস্ত শরীর, মুখমন্ডল ও হাত-পা মারাত্মকভাবে ফুলে যায় এবং পেটের ব্যথা তীব্রতর হয়। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাঃ এস এম রমিজ আহমেদের অধীনে চিকিৎসাধীন থাকার পর জানা যায়, ভুল চিকিৎসার ফলে উচ্চমাত্রার ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের কারণে তন্ময় সরদার তীব্র কিডনি বিকলতা এবং স্ক্রোটাল সোয়েলিং রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
দীর্ঘ দিন হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়াই করে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, ইয়াসিন আলী কোনো এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসক নন। তিনি মূলত ডিপ্লোমা ধারী হয়েও দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন।
তিনি আরও জানতে পারেন যে, ইয়াসিন আলী যে বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বরটি (ডি-১৩১৯৮) ব্যবহার করছেন, সেটি মূলত ডাঃ এ জেড এম ফখরুল ইসলাম নামের একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের। বিষয়টি জানার পর তন্ময় সরদার সুস্থ হয়ে গত মে মাসে উক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ চেম্বারে গিয়ে জালিয়াতি ও ভুল চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভুয়া চিকিৎসক ও তার সহকারী ক্ষিপ্ত হয়ে রোগীকে লাঞ্ছিত করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। ভুক্তভোগী তন্ময় সরদার হাসপাতালের প্রমাণাদিসহ এই ভুয়া চিকিৎসকের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তন্ময়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডালিয়া আক্তার সাথীকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সকল অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় ইয়াসিন আলী পলাশকে ৬ মাসে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
একে